‘মেয়ে হয়ে কেন ছেলেদের কোচ হতে পারবো না’
মেয়েদের কুস্তির মঞ্চে প্রতিযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন লড়েছেন শিরিন সুলতানা। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর ছয় বছর ধরে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। এবার নতুন পরিচয়ে আলোচনায়…
মেলবোর্ন, ২৩ অক্টোবর- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বগুড়া জেলা কমিটির সাবেক সদস্যসচিব সাকিব খানকে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরীকে ফোনে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। রাজধানীর শাহবাগ থানা পুলিশ বুধবার আদালতে পাঠানো ফরোয়ার্ডিং প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে।
এর আগে, গত সোমবার শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক শহিদুল আলম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২২ ও ২৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। সেদিন রাতেই যৌথ বাহিনী বগুড়া শহরের নারুলী এলাকা থেকে সাকিব খানকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে আসে। বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মনিরুল ইসলাম তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত ফরোয়ার্ডিং প্রতিবেদনে বলা হয়, সাকিব খান নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পরিচয় দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মুঠোফোন নম্বর থেকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীকে ফোন করেন। তিনি এক কর্মকর্তাকে পুলিশ সুপারের পদে পদায়নের সুপারিশ করেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি ও সাকিব খান মিলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তা ও বিসিএস কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। তাদেরকে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাইবার অপরাধ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য পেয়ে পুলিশ সাকিব খানকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি, তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন এবং জামিন দিলে তিনি পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা তদন্ত ব্যাহত করতে পারে।
সাকিব খানের আইনজীবী মোছা. মেহেরুন্নেছা জানান, তাঁদের পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়েছিল, তবে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার একই আদালতে পুনরায় জামিন আবেদন করা হবে এবং আগামী রোববার শুনানি হতে পারে।
অন্যদিকে, সাকিব খানের বাবা ফরহাদ হোসেন দাবি করেন, তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমালোচনা করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।
সাকিব খানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বগুড়ায় সাধারণ ছাত্র-জনতার ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপি, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ কয়েকটি প্রগতিশীল সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাঁরা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশসহ সব ‘কালো আইন’ বাতিলের দাবি জানান।
সুত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au