বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ অক্টোবর- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার (২২ অক্টোবর) ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ধর্ষণের অভিযোগের প্রমাণ না মিললেও শ্রীশান্তের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শ্লীলতাহানি ও ধর্মীয় উসকানির কিছু উপাদান পাওয়া গেছে। এজন্য তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, প্রয়োজনে রিমান্ড চাওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে বুয়েট ক্যাম্পাসে সহপাঠীর শ্লীলতাহানি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহসান উল্লাহ হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে বিক্ষোভ করেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শ্রীশান্ত রায়কে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে।
বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চকবাজার থানায় মামলা করে। পরে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরিস্থিতির কারণে বুধবার ও বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত টার্ম পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।

বুয়েট শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত। অভিযোগ তদন্তাধীন; পরিবার ও সহপাঠীরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন। ছবি: সংগৃহীত
শ্রীশান্ত বর্তমানে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের অধীনে দায়ের করা মামলায় কারাগারে আছেন। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি আগামীকালের জামিন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলাটি এখনো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগগুলো অনুমাননির্ভর। তিনি দাবি করেন, এটি জামিনযোগ্য অপরাধ এবং বিষয়টি ন্যায়সংগতভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, শ্রীশান্তের পোস্ট ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং তা সমাজে প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে, তাই জামিন দেওয়া উচিত নয়।
চকবাজার থানায় বুয়েটের নিরাপত্তাকর্মী মো. আফগান হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, ছদ্মনাম ব্যবহার করে শ্রীশান্ত সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু পোস্ট দিয়েছেন, যা মুসলিম নারী ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তার স্থায়ী বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানায়। অন্যদিকে বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মত, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে তদন্ত স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক হওয়া উচিত। কেউ দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তার অধিকার ও ন্যায়বিচারের নীতি বজায় রাখা জরুরি বলে তারা মনে করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “বিচার হোক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে, আবেগ বা চাপের ভিত্তিতে নয়।”
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন, এবং আদালতের পরবর্তী শুনানিতে শ্রীশান্ত রায়ের জামিন আবেদন পর্যালোচনা করা হবে।
সুত্রঃ দিপ্ত টিভি