ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ক্যান্টিনে হিন্দু শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংখ্যালঘু হিন্দু শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) হলের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি সামনে আনেন। পোস্টে তিনি দাবি করেন, দুপুরের খাবারে মুরগির মাংসের আইটেমে গরুর মাংসের টুকরা পাওয়া গেছে। তিনি আরও লেখেন, বিষয়টি প্রভোস্টকে জানানো হলে ক্যান্টিনের মেট্রনের মাধ্যমে ক্যান্টিন মালিক তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে একই খাবার অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে খেয়ে ফেলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ওই শিক্ষার্থী তার পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোজার সময় খাবারের আইটেম কম থাকায় শিক্ষার্থীরা বিকল্প না পেয়ে ক্যান্টিনের খাবারই গ্রহণ করেন। এ অবস্থায় খাবারে গরুর মাংস মিশে যাওয়ার বিষয়টি হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর ও আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে একটি মাত্র ক্যান্টিন রয়েছে, যেখানে হিন্দু ও মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য একসঙ্গে রান্না করা হয়। অতীতে কয়েকবার হিন্দু শিক্ষার্থীদের অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ক্যান্টিন বা আলাদা রান্না ব্যবস্থার দাবি জানানো হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেকেই ক্যান্টিনের খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সবসময় বাইরে খাওয়ার সুযোগ বা সামর্থ্য সবার থাকে না। ফলে বাধ্য হয়ে ক্যান্টিনের খাবারই খেতে হয়। তাদের অভিযোগ, হল প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নিয়ে দায়সারা সমাধান করছে।
মঙ্গলবারের ঘটনার পর হলের প্রোক্টোরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা লিখিত ব্যাখ্যার বদলে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে।
সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীরা বলছেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা ও আলাদা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তারা দ্রুত আলাদা ক্যান্টিন বা অন্তত আলাদা রান্না ও পরিবেশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, একই ধরনের অভিযোগ বারবার ওঠায় এখন স্থায়ী সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে।