২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ট্যাংকার, আরও আসবে চারটি
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর ১০ দিনের মাথায় ২৭ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। আজ সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে…
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ: “পরিবর্তন”— শব্দটি আমাদের কাছে নতুন নয়। সময়ের সাথে পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক এবং গ্রহণযোগ্য। আমাদের হোমো সেপিয়েন্সরা অর্থাৎ পূর্বপুরুষরা কিন্তু পরিবর্তন মেনেই খাপ খাইয়ে এসেছেন বহুবছর।
আজকাল চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে জাতিসংঘের বৈঠক পর্যন্ত তেমনি একটি পরিবর্তনের কথা চলছে, এবং এই পরিবর্তন বিগত অন্য সব পরিবর্তনের চেয়ে আলাদা ও দ্রুত এবং বিপদজনক আর সেটি হলো “জলবায়ু পরিবর্তন”।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতকে অস্তিত্বগত সঙ্কটে ফেলতে যাচ্ছে।
সাড়ে চারশো কোটি বছরের ইতিহাসে পৃথিবী অসংখ্য পরিবর্তনের সাক্ষী। কিন্তু হঠাৎ করেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কেন এত উদ্বেগ?
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল থেকে শুরু করে উপকূল, পাহাড়, সমতল,সবখানেই কেন এই একই পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা জায়গা করে নিলো?
কেন তরুণ প্রজন্ম এক একজন জলবায়ু কর্মী, এমনকি জলবায়ু যোদ্ধায় পরিণত হচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে এবং তার আগে আমাদের অনুভব করতে হবে এর ভয়াবহতা।
ভাবুন, ২০২০ এ করোনাকাল, কিংবা কোন এক দূর্ভিক্ষের সময় কী হয়েছিল। পুরো পৃথিবী থমকে গিয়েছিল, চারদিকে শুধু মৃত্যু, শোক আর অনিশ্চয়তা। তখন মনে হয়েছিল জীবনের সময় থমকে গেছে।বাঁচবার আহাজারির কথা তো নিশ্চয় অনুধাবন করতে ভুলে যাননি!
অথচ যদি বলি আগামীতে যা হতে যাচ্ছে তা এইসব মহামারী থেকেও শতগুনে ভয়াবহ!
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতকে অস্তিত্বগত সঙ্কটে ফেলতে যাচ্ছে।
উদাহরণ চাই?
দেখুন সিলেটের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা, যা ১২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড়। ২০২৪ সালে রেকর্ড ভেঙে দেওয়া ফেনীর বন্যা, দেশের সর্বত্র অতিমাত্রার তাপপ্রবাহ। কেমন ছিল সেসময় একটু অনুভব করুন।
এসব কিছুই কিন্তু হঠাৎ করে ঘটেনি। এর নেপথ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের অব্যাহত আঘাত। জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে তৈরি হওয়া গ্রিনহাউস গ্যাস যা পৃথিবীর তাপমাত্রাকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং থেকে আরও ভয়ঙ্কর “বয়েলিং ওয়ার্মিং”-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এর প্রভাব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। ঋতুচক্রের অস্বাভাবিকতা, দুর্যোগের ঘনঘটা, ইকোনমিক, নন-ইকোনমিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তার সব মিলিয়ে প্রকৃতি হয়ে উঠছে আগ্রাসী। বাংলাদেশে এর অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়ছে চরাঞ্চল, উপকূল, পাহাড়ি অঞ্চলে।
বিজ্ঞানীদের বিশেষ দল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডিভিলপমেন্ট(আইসিসিসিএডি) এর তথ্য অনুযায়ী আগামী ২৫ সালের এর মধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠাের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ১২ থেকে ১৮ শতাংশ এলাকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এবং এতে প্রায় নয় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অপরদিকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে হিমালয় পর্বতমালা গলার পরিমাণ বহুগুণে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি)
এতে দেশের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা কুড়িগ্রাম সহ নদ-নদী,সমুদ্র বেষ্টিত বিভিন্ন জেলা হুমকিতে রয়েছে। দেশের কৃষিতে পরতে পারে বড় ধাক্কা। এতমধ্যে সময়, অসময়ে বন্যা,নদীভাঙন বেড়েছে বহুগতীতে। হারিয়ে যাচ্ছে বসত ভিটা,সংস্কৃতি।
নিভৃতে নিশ্চুপে,আড়ালে সেইসব শতশত মানুষেরা প্রতিনিয়ত ঘরবাড়ি ছেড়ে ছিন্নমূল হয়ে পরছেন। আশ্রয় নিতে ছুটছেন অন্যত্র জেলায়, কোন মতে বাস করছেন বস্তিতে। মানবাধিকার ও শিশু অধিকারের লঙ্ঘন বাড়ছে নীরবে।
তাহলে দায়ী কে?
এই বিপর্যয়ের মূল দায় অনেকেই নিজের ভাগ্য কিংবা সৃষ্টিকর্তার কাঁধে দিয়ে হাঁপ ছেড়ে বাাঁচতে চায় কিন্তু সত্যি এই যে এর পুরো দায় বর্তায় উন্নত দেশগুলোর ওপর— যেমন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ব্রাজিল মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশগুলো, এমনকি প্রতিবেশী ভারতও এর বাইরে নয়। শিল্পবিপ্লব থেকে আজ পর্যন্ত এসব দেশ নির্বিচারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে কার্বন নিঃসরণ বাড়িয়েছে। ফলে আজকের পৃথিবী এক অচেনা বিপদের মুখোমুখি। এবং তা এখনো চলমান।
তাইতো জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছিলেন আমরা উষ্ণতার যুগ থেকে সিদ্ধ হবার যুগে প্রবেশ করছি। তাই প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রির সীমার মধ্যে রাখতে বিশ্বনেতাদের বলা হয়েছে। বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন দ্রুততম সময়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এসময়ের সবথেকে একমাত্র জরুরি কাজ হয়ে পরেছে।
তাইতো বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এক সুরে বলছেন, যত দ্রুত সম্ভব কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে এবং তা শূন্যের কোটায় আনতেই হবে। নইলে আমাদের কল্পনার সাইন্স ফিকশন সিনেমার ভয়াবহ দৃশ্যগুলো বাস্তব হয়ে উঠবে।
একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনে দায়ী দেশগুলোকে কার্বন নিঃস্বরন কমানোর পাশাপাশি লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড ও এডাপটেশন ফাইন্যান্স বাস্তবায়ন ও দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে বন্টনে ভূমিকা রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে।

পাইন বন ঢেকে থাকা কারখানার ধোঁয়া বিশ্ব উষ্ণায়নের দ্বিগুণ এক্সপোজার জলবায়ু পরিবর্তন: মেলিন্ডা নাগি
আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে তাই এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশ্বনেতারা আলোচনায় বসছেন বটে, কিন্তু পুঁজিবাদী অর্থনীতি, অস্ত্রশক্তির প্রতিযোগিতা আর ক্ষমতার রাজনীতির কারণে কার্যকর উদ্যোগ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
তবু আশার আলো আছে।
উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো জাষ্ট ট্রানজিশন কিংবা ন্যায্য রুপান্তর। আমরা সহজেই সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, বায়োগ্যাস এসব পরিচ্ছন্ন শক্তিকে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই উন্নত প্রযুক্তির উৎসগুলো শুধু জলবায়ু পরিবর্তন রোধেই নয়, নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজন শুধু সঠিক নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ,সঙ্গে সঠিক নীতিমালা এবং তরুণদের সম্পৃক্ততা।
স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে স্থানীয় উন্নয়ন গবেষণা ও অভিযোজন কর্মসূচিতে যুক্ত করা এখন সময়ের দাবী।
লেখক – স্বপন কুমার সরকার (ক্লাইমেট জাষ্টিস অ্যাডভোকেট)
ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর
জাষ্টিস ফর চর এন্ড লোকাল রিসার্চ ( জেএফসিএলআর)
বয়সঃ ২১
০১৭৩৪৮৯০৯৫৭
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au