সংসদে বাদ পড়ছে গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের ২০টি অধ্যাদেশ
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে জাতীয় সংসদে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের…
মেলবোর্ন, ২ এপ্রিল- সিলেট বিভাগে সিএনজি, এলপিজি ও পেট্রোল পাম্প মালিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। হঠাৎ করে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের ঘোষণায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে পাম্পগুলো। প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পাম্প মালিকদের মধ্যে জরুরি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত আড়াইটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আপাতত ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। তবে মালিকদের দাবি-দাওয়া পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানার নামে হয়রানির অভিযোগ তুলে পাম্প মালিকরা আকস্মিকভাবে তেল ও গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন। বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে এ ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সিলেটজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। এতে পরিবহন খাতে অচলাবস্থার শঙ্কা তৈরি হয় এবং চালক ও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল। রাত দেড়টার দিকে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ আহমদ চৌধুরী এবং সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম পাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার এলাকায় অবস্থিত মেঘনা অয়েল ডিপোতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে।
বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হওয়ায় ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।
পাম্প মালিকদের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অভিযানে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে মোটা অংকের জরিমানা করা হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের এমন আচরণে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ধর্মঘটের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান বলেন, তাদের একজন সদস্যের চারটি পাম্প রয়েছে এবং তিনি একদিনে একটি গাড়ি জ্বালানি তেল পেয়ে তা চারটি পাম্পে সরবরাহ করেন। কিন্তু পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয় বলে তারা জানতে পারেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং আটক ব্যক্তির মুক্তির দাবিতে পাম্প মালিকরা একত্রিত হয়ে কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি আরও বলেন, তারা সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে চান। তবে প্রশাসনের উদ্দেশ্যমূলক হয়রানি বন্ধ না হলে এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সিলেটের চার জেলায় ঘোষিত এই ধর্মঘট কার্যকর হলে পুরো অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেত এবং পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসায় বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি বিক্রি শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে মালিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার বিষয়টি এখনও খোলা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au