৫৬ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব, উদ্বিগ্নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ঘাটতি বা ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তৈরি হওয়াই দেশের বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের…
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় দেশের অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এবং দেশের সব মার্কেট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন থেকে সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত হবে।
একই সঙ্গে দেশের মার্কেট ও শপিং মলগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো মার্কেট বা শপিং মল খোলা রাখা যাবে না। এতে করে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় হবে বলে আশা করছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, শিক্ষা খাত নিয়েও আলাদা করে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন স্তরের প্রয়োজন বিবেচনা করে রোববার থেকে নতুন নির্দেশনা জারি করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি ও কার্যক্রমেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রেও একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের জন্য সরকারি অর্থে নতুন কোনো যানবাহন কেনা বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে স্থলযান, নৌযান এবং আকাশযান সবই অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি কম্পিউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়েও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
সরকারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও কাটছাঁট আনা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ রাখা হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ স্থগিত থাকবে। এছাড়া সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয়ও ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সামগ্রিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে জ্বালানি সংকটের চাপ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়কে কেন্দ্র করে সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলো দেশের প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au