ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল-মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে। ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক করার দাবি করেছে ওয়াশিংটন, আর তেহরান…
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ) রোববার এ তথ্য জানায়।
সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি, অবাস্তব প্রত্যাশা, অবস্থান বারবার পরিবর্তন, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখেই দ্বিতীয় দফা বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে আইআরএনএ অভিযোগ করে, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ‘দোষ চাপানোর খেলা’ খেলছে এবং বৈঠকে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
এদিকে রোববারই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত একটি শান্তি চুক্তি সম্ভব হতে পারে। তিনি বলেন, চুক্তির মূল কাঠামো অনেকটাই প্রস্তুত এবং এটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ভালো।
এর আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইরান ইস্যুতে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাচ্ছে। পরে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ওই দলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার থাকবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রথমে একটি কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, এরপর বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। তবে ইরানের কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে আসছেন, দ্বিতীয় দফা বৈঠকের কোনো সম্ভাবনা নেই। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত ইরানি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যাবে না।
পাকিস্তানভিত্তিক সমসাময়িক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ওমর আজহার বলেন, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য এই আলোচনাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শহরের বড় দুটি হোটেলে প্রতিনিধি দলগুলোর থাকার ব্যবস্থা করা হতে পারে এবং ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, সৌদি আরবসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে পাকিস্তান এই আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা করছে। ফলে কোনো ইতিবাচক ফল আসতে পারে বলে দেশটির জনগণের মধ্যে আশাবাদ রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প এই আলোচনাকে ইরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করলেও, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতিও নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
সূত্রঃ দ্য জেরুজালেম পোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au