সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অনেক শিক্ষার্থী এখন নিজেদের আবাসন ব্যবস্থা নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।
নিহত দুই শিক্ষার্থীই বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে একজনের নাম জামিল আহমেদ লিমন এবং অন্যজন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, লিমন ও আবুঘরবেহ ক্যাম্পাসের বাইরে একই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। অন্যদিকে লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছেন লিমনের পরিবার।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আলিসিয়া বলেন, সাধারণত এ ধরনের ঘটনা দূরের কোথাও ঘটে বলে শোনা যায়, কিন্তু যখন নিজের বিশ্ববিদ্যালয় বা কাছাকাছি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে, তখন তা অনেক বেশি ভীতিকর হয়ে ওঠে। তিনি জানান, বিদেশে থাকা তাঁর মা-বাবাও বিষয়টি জানার পর তাকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
আরেক শিক্ষার্থী নাথান আরনান জানান, যেখান থেকে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার অ্যাপার্টমেন্ট সেখান থেকে মাত্র দুই মিনিট দূরে। তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাসের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং বাসা ভাড়ার আগে রুমমেটদের অতীত যাচাই বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান। তাঁর ভাষায়, কোনো শিক্ষার্থীর মাথার ওপর এমন ঝুঁকি থাকা উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দুজনেরই মৃত্যু। ছবিঃ সংগৃহীত
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী এভারেট বলেন, এ ঘটনা এখনই তাঁর সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেনি, তবে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসের বাইরে বাসা নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়টি সামগ্রিকভাবে একটি ভালো পরিবেশ বজায় রেখেছে, তবে সাম্প্রতিক ঘটনা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গত শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে জামিল আহমেদ লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করার পর থেকে এই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। পুলিশ জানায়, তার মরদেহ একটি কালো পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো ছিল। একই এলাকার কাছাকাছি একটি জলাশয় থেকে আরেকটি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরীক্ষা চলছে।
ঘটনাটি তদন্ত করছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। তারা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবার যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আবাসন ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে, যা দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
সূত্রঃ টাম্পাবে২৮