আরজি কর কাণ্ডে তিন আইপিএস কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
মেলবোর্ন, ১৫ মে- আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই…
মেলবোর্ন, ১৫মে- যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে একাধিক নারী ও কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের দায়ে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ধর্মীয় অবস্থান ও সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এসব অপরাধ চালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ইমামের নাম আব্দুল হালিম খান। তিনি লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার ওল্ড ফোর্ড রোডের বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার তাকে স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন কোর্টে হাজির করে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাকে ন্যূনতম ২০ বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সাতজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে সংঘটিত ২১টি যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন আব্দুল হালিম খান। এসব অপরাধের মধ্যে নয়টি ছিল ধর্ষণের ঘটনা।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাঙালি মুসলিম কমিউনিটিতে ইমাম হিসেবে নিজের অবস্থানকে ব্যবহার করে তিনি নারীদের আস্থা অর্জন করতেন। পরে আধ্যাত্মিক প্রভাব ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাদের যৌন নির্যাতনের শিকার বানাতেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অল্পবয়সী কিশোরীও ছিল।
মামলার তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর জেনি রোনান বলেন, “আব্দুল হালিম খান নিজেকে একজন সম্মানিত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের একজন মানুষ। তিনি নারীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের ওপর শিকারের মতো ঝাঁপিয়ে পড়তেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বিশেষভাবে সেই সাহসী ভুক্তভোগীদের প্রশংসা করতে চাই, যারা ভয় ও মানসিক আঘাত কাটিয়ে সামনে এসে অভিযোগ করেছেন। বিচার প্রক্রিয়ার পুরো সময় তারা অসাধারণ সাহস ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। আশা করি এই রায় তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে।”
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার আব্দুল হালিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। সবচেয়ে কম বয়সী এক ভুক্তভোগী তার স্কুলের একজন শিক্ষকের কাছে নির্যাতনের কথা জানান। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ৫০ জনের বেশি সাক্ষীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং অন্তত ১০টি মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং শিশু নির্যাতনের একাধিক অভিযোগের প্রমাণ পায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল নয়টি ধর্ষণ, চারটি যৌন নিপীড়ন, ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর ওপর দুটি যৌন নির্যাতন, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে পাঁচটি ধর্ষণ এবং একটি অনুপ্রবেশমূলক যৌন হামলার ঘটনা।
তবে পুরো বিচার প্রক্রিয়াজুড়ে আব্দুল হালিম খান নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে ভুক্তভোগীরা মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।
রায় ঘোষণার পর তার নির্যাতনের শিকার হওয়া এক নারী পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই নির্যাতনের কথা প্রকাশ করা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল। দীর্ঘ আট বছর পর আমি মনে করছি ন্যায়বিচার হয়েছে। তবে মানসিক ক্ষত এখনও রয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আশা করি, আমার মতো অন্য ভুক্তভোগীরাও বুঝতে পারবেন যে তারা একা নন এবং চাইলে আইনের সহায়তা পাওয়া সম্ভব।”
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধ এবং সমাজের জন্য বিপজ্জনক অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au