আরজি কর কাণ্ডে তিন আইপিএস কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
মেলবোর্ন, ১৫ মে- আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই…
মেলবোর্ন, ১৫ মে- অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমানোর নতুন পরিকল্পনাকে ঘিরে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত হলে বিদেশি অভিবাসীর সংখ্যা বড় পরিসরে কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী জোট সরকার, আর এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর।
বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর জানিয়েছেন, নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন বা নিট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা দুই লাখের নিচে নামিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণের সংখ্যার সঙ্গে অভিবাসন নীতিকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের যে পূর্বাভাস রয়েছে, সেই হিসাবে লক্ষ্য পূরণ করতে হলে অন্তত এক লাখ মানুষের প্রবেশ কমাতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় কাটছাঁট করতে হলে বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মভিসাধারীদের সংখ্যা কমানো ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সামাজিক নীতি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ডক্টর লিজ অ্যালেন বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোই হবে সবচেয়ে সহজ পথ। তার ভাষায়, শুধু শিক্ষার্থী খাত থেকেই বছরে প্রায় দেড় লাখ মানুষের অভিবাসন হিসাব আসে। ফলে বড় ধরনের কাটছাঁট করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীরা অন্য অনেক অভিবাসী গোষ্ঠীর তুলনায় আবাসন খাতে কম চাপ সৃষ্টি করেন। কারণ, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই আবাসনের ব্যবস্থা করতে হয়।
অন্যদিকে ন্যাশনালস পার্টির নেতা ম্যাট ক্যানাভান স্পষ্ট করে বলেছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানো হবে। তার দাবি, অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার চেয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ হিসেবেই অস্ট্রেলিয়াকে ব্যবহার করছেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় খাত বলছে, এমন সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতি ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার। এটি দেশটির অন্যতম বড় রপ্তানি খাতও।
ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান লুক শিহি বলেন, বারবার নীতির পরিবর্তন উচ্চশিক্ষা খাতকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা শুধু অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করে না, বরং বিশ্বের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী ভিসা ও আবাসন ব্যবস্থার মধ্যে ইতোমধ্যেই সমন্বয় রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত সীমার বেশি শিক্ষার্থী নিতে চাইলে তাদের আবাসনের সক্ষমতা দেখাতে হয়।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন কমানোর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা খাত এবং শ্রমবাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au