বিশ্ব

নিরা ডাটার জরিপ

বৈশ্বিক জরিপে সবচেয়ে অপছন্দের দেশের তালিকায় শীর্ষে ইসরায়েল

  • 4:55 pm - May 15, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৪৮ বার
ইসরায়েলের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৫ মে- একটি নতুন বৈশ্বিক জনমত জরিপে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও চলমান সংঘাতের প্রভাব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। নিরা ডাটার ২০২৬ সালের গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে, যা মূলত যুদ্ধ, মানবিক সংকট এবং পররাষ্ট্রনীতিকে ঘিরে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত। জরিপের ফলাফলে ইসরায়েল সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিতেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।

নিরা ডাটার বৈশ্বিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশ হিসেবে এখন ইসরায়েল অবস্থান করছে শীর্ষে। এর পরপরই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান এবং ইরান। ২০২৬ সালের গণতন্ত্র ও দেশভিত্তিক ভাবমূর্তি গবেষণার অংশ হিসেবে জরিপটি প্রকাশ করেছে গবেষণা সংস্থা নিরা ডাটা।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে ধারাবাহিক রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দেওয়ার কারণে অনেক দেশের জনগণের মধ্যে ওয়াশিংটনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং আন্তর্জাতিক মহলে জবাবদিহিতার বিষয়ে নমনীয় অবস্থানকে অনেকেই দ্বৈত মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দিয়েছে।

এই জরিপে মোট ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতার মতামতের ভিত্তিতে ১২৯টি দেশ এবং তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বা ভাবমূর্তি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে ৯৮টি দেশে আরও ৯৪ হাজার ১৪৬ জন নাগরিকের ওপর আলাদা একটি গণতন্ত্র অভিজ্ঞতা জরিপও পরিচালনা করা হয়। দুটি জরিপ মিলিয়ে এটি এখন পর্যন্ত অন্যতম বৃহৎ বৈশ্বিক জনমত বিশ্লেষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফলাফলে দেখা যায়, সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে দেখা পাঁচটি দেশ হলো সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন এবং ইতালি। এসব দেশকে বিশ্বজুড়ে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, বিশ্বাসযোগ্য এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তির দেশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তালিকার সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে ইসরায়েল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধ, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, জনবসতি উচ্ছেদ, মানবিক সংকট এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতার কারণে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি দ্রুত ও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আদালত দীর্ঘদিন ধরে দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে আসছে, যা বৈশ্বিক জনমতেও বড় প্রভাব ফেলেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার এই পতন শুধু কূটনৈতিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, অনেক দেশেই ইসরায়েলকে এখন নেতিবাচকভাবে দেখা হয়, যা তার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল করে তুলেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।সংগৃহীত ছবি

জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানেও বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ওয়াশিংটন এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতায় রাশিয়া ও চীনের চেয়েও পিছিয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেট পারসেপশন স্কোর ছিল ধনাত্মক ২২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৬ সালের জরিপে তা নেমে এসেছে ঋণাত্মক ১৬ শতাংশে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ৩৮ শতাংশ পয়েন্টের এই পতনকে প্রতিবেদনে একটি বড় বৈশ্বিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, শুল্কনীতি নিয়ে দ্বন্দ্ব, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান, ইউক্রেনকে সহায়তা কমানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা।

জরিপে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবেই নয়, বরং অনেক দেশে একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক ঝুঁকি বা হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ধারণা রাশিয়া এবং ইসরায়েলের পরেই অবস্থান করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক গণতন্ত্রভিত্তিক জরিপ হিসেবে পরিচিত। এটি প্রচলিত বিশেষজ্ঞভিত্তিক র‍্যাঙ্কিং নয়, বরং সরাসরি সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র মূল্যায়ন করে। এতে ভোট, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুমত, নাগরিক শিক্ষা, ক্ষমতার ভারসাম্য, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে।

গাজা পরিস্থিতি এই জরিপের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে ইসরায়েল ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে, যার ফলে বড় সংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় পুরো গাজা উপত্যকা মানবিক সংকটে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য গণহত্যার ঝুঁকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা বিশ্ব জনমতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।

সূত্রঃ মিডিল ইস্ট মনিটর

এই শাখার আরও খবর

নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই:  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…

সাত মাসের শিশু কন্যাকে আছড়ে হত্যার মামলায় বাবা গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় সাত মাস বয়সী শিশুকন্যাকে আছড়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন…

জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে ২১ দিনে প্রায় ২০ হাজার ওষুধের গরমিল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারে মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল ধরা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির…

৯ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্তত ৯ জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে…

মন্দিরে নেওয়ার কথা বলে কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই:  ভারতের কর্নাটকের দেবনাহাল্লিতে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের পর জোরপূর্বক মদ খাইয়ে এক নির্মাণাধীন ভবনে সারা রাত সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা…

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

মেলবোর্ন, ২২জুলাই- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au