আরজি কর কাণ্ডে তিন আইপিএস কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
মেলবোর্ন, ১৫ মে- আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই…
মেলবোর্ন, ১৫ মে- অস্ট্রেলিয়ায় কট্টর ডানপন্থি শ্বেতাঙ্গবাদী সংগঠন ন্যাশনালিস্ট সোশ্যালিস্ট নেটওয়ার্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ‘ঘৃণাভিত্তিক সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এর মাধ্যমে সংগঠনটি অস্ট্রেলিয়ার আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত দ্বিতীয় ঘৃণাভিত্তিক গোষ্ঠীতে পরিণত হলো।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। ফলে সংগঠনটিকে সহায়তা করা, অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ দেওয়া, সদস্য সংগ্রহ, যোগদান কিংবা সংগঠন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকা এখন থেকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
সংগঠনটি “হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া” এবং “ইউরোপিয়ান অস্ট্রেলিয়া মুভমেন্ট” নামেও পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইওর মহাপরিচালক মাইক বার্গেস এর আগে এই গোষ্ঠীটিকে এমন একটি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, যারা “আইনের সীমা অতিক্রমের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে”। একই তালিকায় ছিল ইসলামপন্থি সংগঠন হিযবুত তাহরির।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইওর সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরে অ্যাটর্নি জেনারেল তা অনুমোদন দেন। বিরোধী দলকেও এ বিষয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
টনি বার্ক বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ঘৃণাপূর্ণ মানসিকতা বা উগ্র মতাদর্শ পুরোপুরি বন্ধ করবে না। তবে এটি সংগঠনটিকে একত্রিত হওয়া, সভা করা কিংবা দেশজুড়ে যেসব উগ্র ও বর্ণবাদী সমাবেশ করেছে, সেগুলো আয়োজন থেকে বিরত রাখবে।
তিনি বলেন, “এটি তাদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা, যারা বর্ণগত শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করে। আধুনিক অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের মতাদর্শের কোনো জায়গা নেই।”
অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ান জুয়রির সহপ্রধান নির্বাহী পিটার ওয়ার্থেইম এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০২১ সাল থেকেই তারা এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
তার ভাষায়, সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের উগ্রপন্থায় প্রলুব্ধ করত এবং সদস্য সংগ্রহ করত, যা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কৌশলের সঙ্গে মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, “তারা নিজেদের যে নামেই ডাকুক না কেন, তাদের কর্মকাণ্ড নাৎসিদের পুরোনো ঘৃণা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি।”
অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে সংগঠনটি নিজেদের বিলুপ্ত ঘোষণা করলেও পরে অন্য নামে আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। টনি বার্ক বলেন, তারা মূলত নাম পরিবর্তন করেছে, কিন্তু আদর্শ ও কার্যক্রম পরিবর্তন করেনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন নতুন নামে পুনর্গঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে সরকার খুব সহজেই নতুন নামটিকেও নিষিদ্ধ তালিকায় যুক্ত করতে পারবে।
সরকারের দাবি, গত ২২ এপ্রিল এএসআইও সরকারকে জানায় যে সংগঠনটি সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি মানদণ্ড পূরণ করেছে।
বিরোধী দলের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জনো ডুনিয়ামও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই নব্য-নাৎসি গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যই হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক মূল্যবোধ ধ্বংস করা।
তার ভাষায়, “ঘৃণাভিত্তিক এই মতাদর্শের জন্য আমাদের সমাজে কোনো জায়গা নেই। যদি তারা অপরাধমূলক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে তাদের বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং সদস্যদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
এদিকে সিডনির বন্ডি এলাকার প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ সদস্য অ্যালেগ্রা স্পেন্ডারও সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই নব্য-নাৎসি গোষ্ঠী তার এলাকার ইহুদি, মুসলিম, এলজিবিটিকিউআইএ+ এবং আদিবাসী সম্প্রদায়কে ভয়াবহভাবে টার্গেট করেছে।
তবে তিনি একই সঙ্গে ঘৃণাবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় আরও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উদ্যোগ এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধে ধারাবাহিক নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বন্ডি বিচে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় উগ্রবাদবিরোধী আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার এখন কট্টর ডানপন্থি ও ধর্মীয় উগ্রবাদী উভয় ধরনের সংগঠনের বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
সূত্র: News.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au