ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ডিআর কঙ্গোতে অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ১৯ মে- ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং…
মেলবোর্ন, ১৯ মে- পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর নির্মল হালদার নামে এক গ্রাম্য কবিরাজের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামের শাহআলম মাস্টারের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নির্মল হালদার উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিপেন হালদারের ছেলে। এলাকায় তিনি ‘নির্মল ওঝা’ বা ‘নির্মল কবিরাজ’ নামে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মল হালদার দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম্য চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি সুদের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় তিনি অত্যন্ত হাসিখুশি, সদালাপী ও পরিচিত একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি নির্মল হালদার। রাত গভীর হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তার মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে পানাউল্লাহপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিহতের ভাগ্নে দিলীপ হালদার বলেন, তার মামার সঙ্গে কারও কোনো প্রকাশ্য বিরোধ ছিল না। তিনি সবসময় গলায় প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি সোনার লকেট পরতেন এবং সঙ্গে নগদ টাকা রাখতেন। কিন্তু মরদেহ উদ্ধারের সময় তার গলায় কোনো স্বর্ণালংকার ছিল না। নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনও পাওয়া যায়নি। এ কারণে পরিবারের ধারণা, তাকে হত্যা করে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সমীরণ রায় বলেন, প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে নির্মল হালদার কুড়িয়ানা বাজারে গিয়েছিলেন। এরপর রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। পরে তার নিখোঁজ হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
নেছারাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের গলায় কোনো স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাও অনুপস্থিত ছিল। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au