ইসরায়েলি কট্টরপন্থি মন্ত্রী বেন গাভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা
মেলবোর্ন, ২৪ মে- ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গাভিরের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা ও…
মেলবোর্ন, ২২ মে- অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশনের নেত্রী পলিন হ্যানসন এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিককে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করায় নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন। অ্যাডিলেডে আয়োজিত তেল ও গ্যাস শিল্পবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে উত্তপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে তার দলের আচরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরও সাংবাদিকেরা ওয়ান নেশন দলের জ্বালানি নীতি, ফ্র্যাকিং এবং অফশোর গ্যাস উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন। এ সময় পলিন হ্যানসনের মিডিয়া উপদেষ্টা রিচার্ড হেন্ডারসন সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, “আমরা শেষ করেছি, ধন্যবাদ। না, না, না। চুপ করুন, আমরা শেষ করেছি।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সাংবাদিক সারা মার্টিন সঙ্গে সঙ্গে এ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “আপনি কি আমাকে চুপ করতে বললেন? এটা তো ভদ্র আচরণ নয়।”
এরপর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পলিন হ্যানসন তার স্টাফ এবং ফেডারেল এমপি বার্নাবি জয়েসকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ভিড় থেকে সরে যাচ্ছেন। হাঁটার সময় বার্নাবি জয়েসকে বলতে শোনা যায়, “আপনি খুব ভালো করেছেন।”
এ সময় পলিন হ্যানসনকে সাংবাদিক সারা মার্টিনকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, “আমার বলা উচিত ছিল তুমি একটা বাজে মহিলা।” তার এই মন্তব্যে পাশে থাকা রিচার্ড হেন্ডারসন ও বার্নাবি জয়েস হাসতে থাকেন। পরে হ্যানসনকে বলতে শোনা যায়, “চাইলে আমি ফিরে গিয়ে ওকে বলেও আসতে পারি।”
ঘটনার পর বার্নাবি জয়েস স্কাই নিউজকে জানান, তিনি পরে সাংবাদিক সারা মার্টিনকে ফোন করে রিচার্ড হেন্ডারসনের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
অন্যদিকে অ্যাডভারটাইজার পত্রিকার পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে তার মিডিয়া উপদেষ্টার এমন আচরণকে তিনি উপযুক্ত মনে করেন কি না। জবাবে পলিন হ্যানসন বলেন, “না, আমি এটাকে উপযুক্ত মনে করি না। আমি ইতোমধ্যে ওই মন্তব্যের জন্য তাকে ভর্ৎসনা করেছি।”
মূলত অ্যাডিলেড সফরে গিয়ে ওয়ান নেশনের নতুন জ্বালানি নীতি তুলে ধরছিলেন পলিন হ্যানসন। দলটি অস্ট্রেলিয়ার গ্যাস খাত সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
হ্যানসন ঘোষণা দেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে বর্তমান পেট্রোলিয়াম রিসোর্স রেন্ট ট্যাক্স বা পিআরআরটি বাতিল করবে এবং এর পরিবর্তে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের ওপর নতুন রয়্যালটি আরোপ করবে।
ওয়ান নেশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, অফশোর তেল ও গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ‘ওয়েলহেড রয়্যালটি’ চালু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের গ্যাস প্রকল্পগুলোতে কমনওয়েলথ সরকারের ৩০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে, যেগুলোকে হ্যানসন “অলৌকিক প্রকল্প” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ান এনার্জি প্রডিউসারস কনফারেন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের ব্যয় কমাতে হবে এবং জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তবে জ্বালানি নীতি নিয়ে আলোচনার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার দলের আচরণই এখন অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au