ইসরায়েলি কট্টরপন্থি মন্ত্রী বেন গাভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা
মেলবোর্ন, ২৪ মে- ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গাভিরের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা ও…
মেলবোর্ন, ২৪ মে- বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার এবং বাকস্বাধীনতার সংকুচিত পরিস্থিতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানকে খোলা চিঠি লিখেছেন নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন। চিঠিতে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত ওই চিঠিতে তসলিমা নাসরিন অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে “ধর্ম অবমাননা”র অভিযোগকে ব্যবহার করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা, সামাজিক নিপীড়ন ও হয়রানি চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সাতক্ষীরার শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার, গোপালগঞ্জের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর মিঠু মণ্ডল এবং গৌরীপুর কলেজের শাওন চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও পরবর্তী ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক।
একজন শিক্ষককে অপদস্থ করে জোর করে তাঁর চাকুরি থেকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তিনি নাকি ধর্ম অবমাননা করেছেন! হায়রে ধর্ম!
শিক্ষক মিঠু মণ্ডল কি বলেছিলেন?
পরীক্ষায় সিলেবাস থেকে কি আসতে পারে ছাত্ররা জানতে চাওয়ায় উত্তর দেন মিঠু মন্ডল “স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও জানে না আমি কিভাবে বলবো কি আসবে পরীক্ষায়” তাতেই ধর্ম অবমাননার অভিযোগ!!
পিঞ্জুরী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর মিঠু মন্ডলকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটক করা হয়েছে এবং চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
“ধর্ম অবমাননা”র অভিযোগ এখন ভিন্নমত দমন ও সামাজিক সন্ত্রাসের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাকস্বাধীনতা রক্ষা করা এবং ধর্মীয় উন্মাদনার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার জন্য।
তসলিমা ‘খোলা চিঠি’ দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে! আমরা হুবহু তাঁর লেখা চিঠিটি তুলে ধরলাম:
“মাননীয় তারেক রহমান,
আপনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, হিন্দুদের ওপর আবারও হামলা চলছে, তাদের জমি দখল করা হচ্ছে, এবং গুজবের ভিত্তিতে তাদের জীবন ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।
আজ সাতক্ষীরার স্কুলশিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার, গোপালগঞ্জের স্কুলের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর মিঠু মণ্ডল, গৌরীপুর কলেজের শাওন চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে “ইসলাম অবমাননা”-র অভিযোগ তুলে হিন্দুবিদ্বেষী উগ্রবাদীরা হামলা চালিয়েছে।
পুলিশ এসে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং আক্রান্ত মানুষকেই গ্রেফতার করেছে। জেল থেকে বেরিয়ে তাঁরা কী করবেন? চাকরি হারিয়ে, সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে, চরম নিরাপত্তাহীন অবস্থায় কীভাবে বাঁচবেন? শেষ পর্যন্ত কি তাঁদেরও দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হবে?
এর আগেও রসরাজ দাস, টিটু রায়, উৎসব মণ্ডল, দীপু দাস এবং আরও বহু হিন্দুর জীবন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। “ধর্ম অবমাননা”-র গুজব ছড়িয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
ঘরবাড়ি পোড়ানো হয়েছে, মন্দির ভাঙা হয়েছে, ভিকটিমকে জেলে পাঠানো হয়েছে, দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে হিন্দুশূন্য করার এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের অংশ।
আপনার কাছে প্রশ্ন—হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পর্যন্ত কী কী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? হিন্দুবিদ্বেষ ছড়িয়ে যারা মব সন্ত্রাস চালায়, তাদের বিরুদ্ধে কি আদৌ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? কেন এই সাম্প্রদায়িক নোংরা রাজনীতি বন্ধ করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না?
বাংলাদেশকে যারা ধীরে ধীরে হিন্দুশূন্য রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র যদি দৃঢ় অবস্থান না নেয়, তবে সেই নীরবতা তাদেরই উৎসাহ জোগায়। গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো বাকস্বাধীনতা। অথচ আজ দেশে বাকস্বাধীনতা নেই বললেই চলে।
“ধর্ম অবমাননা”র অভিযোগ এখন ভিন্নমত দমন, সংখ্যালঘু নিপীড়ন এবং সামাজিক সন্ত্রাসের অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
আপনি যদি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে বাংলাদেশ সবার দেশ, তবে সেই বিশ্বাসের প্রমাণ কাজে দেখান। সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা দিন, বাকস্বাধীনতা রক্ষা করুন, এবং ধর্মের নামে চলা উন্মাদনা ও মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিন।
আমি নির্বাসন জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছি। আপনার মা আমাকে দেশছাড়া করেছিলেন। তারপর দীর্ঘ একত্রিশ বছর-না আপনার মা, না শেখ হাসিনা, না মুহম্মদ ইউনুস—কেউ আমাকে দেশে ফিরতে দেননি। আপনিও হয়তো দেবেন না। আমি তাই দেশে ফেরার দাবি জানাচ্ছি না। শুধু এই কথাটি মনে করিয়ে দিতে চাই-বাংলাদেশ যতটুকু আপনার, ততটুকুই আমার।
ইতি
তসলিমা”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au