মেলবোর্ন, ২৪ মে- যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই লেবানন ও সিরিয়া সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গ্রামজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার মধ্যরাতের কিছু আগে লেবাননের ব্রিতাল এলাকার উপকণ্ঠে পাহাড়ি নবি স্রেইজ অঞ্চলে অন্তত পাঁচটি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। গত ১৭ এপ্রিলের পর এই এলাকায় এটিই প্রথম বড় ধরনের হামলা।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের ইয়োহমর আল-শাকিফ এবং মারজাইউন জেলার তাইবেহ শহরেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সীমান্তবর্তী এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের তেবনিন হাসপাতালের কাছেও হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে হাসপাতালটির তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট, অস্ত্রোপচার বিভাগ এবং বাইরে থাকা অ্যাম্বুলেন্সগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার রাত থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ রাহাল গ্রাম, টাইর ও জকুক আল-মুফদি এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। এরপর বহু মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেন।
টাইর শহর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো জানান, স্থানীয়দের মধ্যে চরম ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। তারা জানেন না কবে আবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। অনেকেই ইসরায়েলের এ নির্দেশকে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি হামলা জোরদার হওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিন হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারপরও হামলা থামেনি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২৩ জন চিকিৎসাকর্মী, ২১০ জনের বেশি শিশু এবং প্রায় ৩০০ জন নারী।
সুত্রঃ আল জাজিরা