ইসরায়েলি কট্টরপন্থি মন্ত্রী বেন গাভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা
মেলবোর্ন, ২৪ মে- ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গাভিরের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা ও…
মেলবোর্ন, ২২ মে- অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ২৫টি দেশে সফরে গিয়ে করদাতাদের অর্থে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন তিনি। এ নিয়ে দেশটির বিরোধী জোট কোয়ালিশন তার পদত্যাগ দাবি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত সাড়ে তিন বছরে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন, বৈঠক ও কূটনৈতিক সফরে অংশ নিতে ১০০ দিনের বেশি সময় বিদেশে কাটিয়েছেন ক্রিস বোয়েন। এসব সফরে বিমান ভ্রমণ থেকে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০ কেজি কার্বন ডাই–অক্সাইড নিঃসরণ হয়েছে বলেও দাবি করেছে বিরোধী দল।
বিরোধীদলীয় যোগাযোগবিষয়ক মুখপাত্র সারাহ হেন্ডারসন অভিযোগ করেন, যখন অস্ট্রেলিয়ার মানুষ উচ্চ বিদ্যুৎ বিল ও জ্বালানি সংকটে ভুগছেন, তখন জ্বালানিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে ছবি তোলা ও জলবায়ু সম্মেলন নিয়েই বেশি ব্যস্ত।
স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার মানুষ এমন একজন জ্বালানিমন্ত্রী প্রাপ্য, যিনি বিদ্যুতের বাড়তি বিল কমানোর দিকে মনোযোগ দেবেন, বিদেশ সফরের ব্যয় বাড়ানোর দিকে নয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে এখনই এই খণ্ডকালীন জ্বালানিমন্ত্রীকে সরিয়ে দিতে হবে। তিনি যদি পূর্ণ সময় দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে পদত্যাগ করা উচিত।”
সম্প্রতি ক্রিস বোয়েন ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত কোপেনহেগেন ক্লাইমেট মিনিস্টেরিয়াল বৈঠকে অংশ নেন। জাতিসংঘের পরবর্তী জলবায়ু সম্মেলনের আগে তাকে “কপ প্রেসিডেন্ট অব নেগোসিয়েশনস” হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও ২০২৬ সালের কপ-৩১ সম্মেলন আয়োজনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় এবং আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত হয় তুরস্ক।
বিরোধী দল দাবি করছে, আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতিতে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সমস্যা উপেক্ষিত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, লেবার সরকারের আমলে গড়ে বিদ্যুতের বিল প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে এবং দেশ বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
গত মাসে জার্মানির পিটার্সবার্গ ক্লাইমেট ডায়ালগে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও জ্বালানি সংকট নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ায় শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করেন ক্রিস বোয়েন।
তবে জ্বালানিমন্ত্রীর দপ্তর এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ অস্ট্রেলিয়ার বৈশ্বিক অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au