ইসরায়েলি কট্টরপন্থি মন্ত্রী বেন গাভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা
মেলবোর্ন, ২৪ মে- ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গাভিরের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা ও…
মেলবোর্ন, ২৩ মে- ইউরোপের শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে স্পেন। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় প্রায় পাঁচ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্পেন সরকার। শুধু বৈধতা নয়, এসব অভিবাসীকে সরাসরি আনুষ্ঠানিক চাকরির আওতায় আনার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। ফলে স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ লাখো অভিবাসীর সামনে নতুন কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পেনের অভিবাসন বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট পিলার ক্যানসেলা জানান, বৈধতা পাওয়া অভিবাসীদের দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী নির্মাণ, পর্যটন, পরিবহন, পরিচর্যা ও সেবাখাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে স্পেনের জনসংখ্যা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে। ফলে আগামী দশকে দেশটির পেনশন ব্যবস্থা ও কল্যাণমূলক অর্থনীতি সচল রাখতে বিপুল সংখ্যক তরুণ কর্মীর প্রয়োজন হবে। এ কারণেই অভিবাসীদের আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করাকে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘোষিত এই নিয়মিতকরণ কর্মসূচি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম মাসেই দুই লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর পর অনেককেই অস্থায়ী কাজের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
স্পেন সরকার জানিয়েছে, সম্ভাব্য পাঁচ লাখ আবেদনকারীর পাশাপাশি অতিরিক্ত আবেদন মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এনজিও ও বিশেষায়িত সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ আবেদন পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে।
স্পেনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান Funcas–এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার অনথিভুক্ত অভিবাসী অনানুষ্ঠানিক বা অলিখিত খাতে কাজ করছেন। তাদের বড় একটি অংশ লাতিন আমেরিকা থেকে এলেও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
সরকারের নতুন ‘জব-ম্যাচিং’ কৌশলের মাধ্যমে এসব মানুষকে ছায়া অর্থনীতি থেকে বের করে মূলধারার আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে আনার চেষ্টা করা হবে। এ লক্ষ্যে অভিবাসীদের দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে একটি স্বেচ্ছামূলক জরিপ চালানো হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
পিলার ক্যানসেলা বলেন, বহু অভিবাসী ইতোমধ্যেই স্পেনের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, কিন্তু তারা ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। বৈধতা ও আনুষ্ঠানিক চাকরি পেলে তারা সমাজে আরও ভালোভাবে একীভূত হতে পারবেন।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এতে অবৈধ অভিবাসন আরও বাড়তে পারে। যদিও স্পেনের সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বাধীন জোট সরকার সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপজুড়ে জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমিক ঘাটতির প্রেক্ষাপটে স্পেনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্যও একটি নতুন মডেল হয়ে উঠতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au