ইসরায়েলি কট্টরপন্থি মন্ত্রী বেন গাভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা
মেলবোর্ন, ২৪ মে- ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গাভিরের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা ও…
মেলবোর্ন, ২৩ মে- দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও টিকাদান কর্মসূচি চালানোর পর শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ মে সকাল পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে ৪৯৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। সরকার এক কোটি ৮৩ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় এনেছে এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে মৃত্যুহার কমছে না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকা দিলেই যথেষ্ট নয়। দেশের বিপুলসংখ্যক শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, ফলে তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে না। এ কারণেই টিকা নেওয়ার পরও অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে এবং জটিলতায় মারা যাচ্ছে।
হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত এপ্রিল মাসে সরকার জরুরি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। প্রথমে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু হয়। পরে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ সারাদেশে টিকাদান সম্প্রসারণ করা হয়। ২০ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যাম্পেইন শেষ হয়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, টিকা নেওয়ার পর শিশুর শরীরে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত এক থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। কিন্তু অপুষ্টি, ডায়রিয়া, প্রোটিনের ঘাটতি ও দুর্বল শারীরিক অবস্থার কারণে অনেক শিশুর শরীরে সেই প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না। ফলে টিকা নিয়েও তারা ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারছে না।
জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, হামের টিকার কার্যকারিতা শিশুর বয়স ও পুষ্টির অবস্থার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। উন্নত দেশে যেখানে ১৫ মাস বয়সে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়, সেখানে বাংলাদেশে অপুষ্টি ও ঝুঁকির কারণে ৯ মাস বয়স থেকেই টিকা দেওয়া শুরু করা হয়।
তিনি জানান, ছয় মাস বয়সে টিকা দিলে মাত্র অর্ধেক শিশুর শরীরে কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি হয়। ৯ মাসে এই হার প্রায় ৮৫ শতাংশে পৌঁছায় এবং ১৫ মাসে তা প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যকর হয়।
ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী আরও বলেন, শিশুর শরীরে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। কিন্তু শিশু যদি অপুষ্টিতে ভোগে, পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পায় বা ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে বড় হয়, তাহলে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি বাধাগ্রস্ত হয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, হামের জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দিতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে ডা. এফ এ আসমা খানম বলেন, যেসব মায়েরা আগে হামের টিকা নেননি, তাদের সন্তানরাও পর্যাপ্ত সুরক্ষা পায় না। ফলে মাতৃগর্ভ থেকেই শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে।
তিনি বলেন, গর্ভধারণের আগেই নারীদের টিকা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি শিশুদের ছয় মাস ও নয় মাস বয়সে টিকা নিশ্চিত করতে হবে। যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু টিকাদান নয়, শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা, বুকের দুধ খাওয়ানো বৃদ্ধি এবং অপুষ্টি মোকাবিলার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া হামের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au