ইসরায়েলি কট্টরপন্থি মন্ত্রী বেন গাভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা
মেলবোর্ন, ২৪ মে- ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গাভিরের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা ও…
মেলবোর্ন, ২৩ মে- ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার দেওয়া বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে “ভায়োলেন্স চাইলে আমাদের থেকে বেশি কেউ পারবে না, সেটা জুলাই অভ্যুত্থানে দেখিয়ে দিয়েছি” মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘আপ বাংলাদেশ’-এর ঢাকার দুই মহানগরের ২২৯ জন নেতা-কর্মী এদিন এনসিপিতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় হামলাকারীদের শুক্রবার রাতের মধ্যেই গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “যদি গ্রেপ্তার না করা হয়, আপনারা যদি ভায়োলেন্স বেছে নেন, তাহলে আমাদেরকেও ভায়োলেন্স বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিরোধী দল থেকে বারবার সদিচ্ছা দেখানো হলেও সরকারি দল ভায়োলেন্স চাচ্ছে। কিন্তু যদি সরকারি দল ভায়োলেন্সকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নিতে চায়, তাহলে এটা যে আমাদের থেকে বেশি কেউ পারবে না, সেটা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি।”
আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের অনেকে বলছেন, একটি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রের মুখে এমন বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, সহিংসতার হুমকি বা পাল্টা সহিংসতার ইঙ্গিত গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভাষা হতে পারে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিক সংঘাত নিরসনের পরিবর্তে এ ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘ভায়োলেন্সের সক্ষমতা’ হিসেবে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানকে পরিকল্পিত সহিংসতা হিসেবে ব্যখ্যা করেছেন আসিফ মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর দেশে খুন, ধর্ষণ ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নারী ও শিশুরা আতঙ্কে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন না। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ বাধ্য হবে এই ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে।”
অনুষ্ঠানে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু নেতা-কর্মী ওই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
সারজিস আলম বলেন, “তাঁরা যদি আগের ছাত্রলীগ-যুবলীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনৈতিক আন্দোলন দমন করতে চান, তাহলে তাদেরও খারাপভাবে পতন হবে।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, চলমান উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল নেতাদের আরও সংযত ভাষায় কথা বলা উচিত। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু সহিংসতার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য মাঠের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব শাহরিন সুলতানা। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au