ইসরায়েলি কট্টরপন্থি মন্ত্রী বেন গাভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা
মেলবোর্ন, ২৪ মে- ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গাভিরের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লোটিলার কর্মীদের হেনস্তা ও…
মেলবোর্ন, ২৩ মে- কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট ও শ্মশানকালী মন্দিরে প্রতিমার সঙ্গে আপত্তিকর ভঙ্গিতে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত ২১ মে(বৃহস্পতিবার) ছবিগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পবিত্র ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
অভিযোগে নাম এসেছে সুমন ও আতিকুর নামে দুই যুবকের। তাঁদের বাড়ি ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকার কুমারপাড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, আরও কয়েকজন যুবকও এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
কয়েকদিন আগে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ বাজারে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে একদল মৌলবাদীর মদদে জোর করে গরু জবাই করার প্রথা শুরু হয়। এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত হলেও বাজারে গরু জবাই করাকে সফলতা হিসেবে দেখানো হয়। তার কয়েকদিন পর প্রতিমার সাথে এমন আপত্তিকর ছবি তুলে প্রচারকে ধর্মীয় আগ্রাসন হিসেবে দেখছেন সেখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভিতরবন্দ কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় কিছু যুবকের অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তরা মন্দির চত্বরে প্রবেশ করে উস্কানিমূলক আচরণ করে, জুতা পড়ে মন্দিরে ঢুকে প্রতিমার সঙ্গে আপত্তিকর ও অশ্লীল ভঙ্গিতে ছবি তোলে এবং পরে সেগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এসব ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, শ্মশানঘাট ও মন্দির এলাকা ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। সেখানে মাদক সেবন, জুয়া খেলা ও আপত্তিকর ছবি ধারণের মতো কর্মকাণ্ডে সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও ধর্মপ্রাণ মানুষদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা প্রায়ই দলবদ্ধভাবে সেখানে অবস্থান নেয় এবং উচ্চ শব্দে গান বাজানোসহ নানা ধরনের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
এ ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁরা বলছেন, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় উপাসনালয় ও শ্মশানঘাটের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই হুমকি নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ হীল জামান জানান, ঘটনাটি আমাদের নজরে আসার পর মন্দিরের সামন থেকে ৪ জনকে জুয়া খেলা অবস্থায় আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর যে দুই যুবক প্রতিমার সাথে আপত্তিকর ভঙ্গিতে ছবি তুলেছে তারা বর্তমানে পলাতক। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে রবিবার(২৪ মে) নাগেশ্বরী উপজেলার সকল সনাতনী ভক্তবৃন্দের ব্যানারে মানবন্ধন কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au