বিশ্ব

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

  • 5:58 pm - June 12, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২২৩ বার
ইউন সুক ইওল। ছবি : সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১২ জুন-দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোন পাঠিয়ে আন্তঃকোরীয় উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সিউলের একটি আদালত। শুক্রবার ঘোষিত এ রায়ে আদালত বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তপ্ত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করেছিলেন সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধান।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ইউন সুক ইওল উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল পিয়ংইয়ংয়ের পাল্টা প্রতিক্রিয়া উসকে দেওয়া এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের সময় সামরিক আইন জারির পক্ষে জনমত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি করা।

দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালত প্রসিকিউটরদের উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ইউনকে এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারকদের মতে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে রাজনৈতিক স্বার্থে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ইউন সুক ইওল এমন এক সময় ড্রোন অনুপ্রবেশের অনুমোদন দেন, যখন দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তারা দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে সামরিক আইন ঘোষণার যৌক্তিকতা তৈরি করাই ছিল এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

এর আগেও ইউন সুক ইওল গুরুতর আইনি সংকটে পড়েছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ ও জনবিক্ষোভের মুখে ওই সামরিক আইন মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

বর্তমানে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার, সামরিক আইন জারির চেষ্টা, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের অপপ্রয়োগ এবং তার স্ত্রীকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এত বিস্তৃত ও গুরুতর অভিযোগে একের পর এক সাজা ঘোষণার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সর্বশেষ ৩০ বছরের কারাদণ্ডের রায় ইউন সুক ইওলের রাজনৈতিক জীবনের পতনকে আরও গভীর করেছে এবং দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রায় শুধু একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের বিচার নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার বিচারব্যবস্থার কঠোর অবস্থানেরও প্রতিফলন।

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au