কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে সীমান্তবর্তী…
মেলবোর্ন, ১২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী রোববারের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহর।
পশ্চিমা এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চুক্তির খসড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে এবং ভাষাগত ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে। ইরান বিশেষভাবে লেবাননে চলমান সংঘাত ও সেখানে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে এবং এ অবস্থানে তারা অনড় রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শনিবারের মধ্যেই চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর রোববার জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির একটি বড় ধরনের সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছেছি।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। ছবিঃ সংগৃহীত
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে ধারণা করা যাচ্ছে যে, সম্ভাব্য চুক্তিতে তেহরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা শত শত কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়গুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তি কার্যকর হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে বলেও জানা গেছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে ওঠে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং ইসরায়েলের হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এর বিনিময়ে ইরান কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দেবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তির প্রথম ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে আলাদা আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া যাবে না। যদিও তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে না।
অন্যদিকে ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের চারপাশে মোতায়েন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস এবং যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি।
মেহরের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি সহায়তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আলোচিত শর্তগুলোতে দুই পক্ষ সম্মত হলে এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কেই নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au