কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে সীমান্তবর্তী…
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জান সেলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়েও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজ বাসা থেকেই বিদ্যালয়ের অধিকাংশ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ ঘটনায় শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সেলিমুজ্জান সেলু। ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। তবে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি নিয়মিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি চাকরিতে বহাল ছিলেন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। তার বড় ভাই শাহ আলম তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক প্রভাব আরও শক্তিশালী ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেলিমুজ্জান সেলু ২০০৩ সালে উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরে ২০০৯ সালে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১৪ সালের পর থেকে তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন তিনি। ওই কমিটিতে ছয় মাসের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হয়নি। পরবর্তীতে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং নির্বাচন ছাড়াই তিনি এক বছর আট মাসেরও বেশি সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে সেলিমুজ্জান সেলু একসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত আচরণবিধির খসড়া অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের পদ গ্রহণ বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। কোনো প্রধান শিক্ষক সরাসরি রাজনৈতিক পদে থেকে দায়িত্ব পালন করলে তা সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলাবিধির আলোকে অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তের মতো শাস্তির বিধান রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া সেলিমুজ্জান সেলুকে বিদ্যালয়ে খুব কমই দেখা যায়। বিদ্যালয়ের অধিকাংশ দাপ্তরিক কাজ তিনি নিজ বাসা থেকেই পরিচালনা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, সেলিমুজ্জান সেলু অতীত সরকার এবং বর্তমান সরকার উভয় সময়েই প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি ছুটি শেষে খুলেছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একাডেমিক সুপারভাইজারকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি রাজনৈতিক দলের নেতাও হন, তবুও তাকে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার দায় দল নেবে না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির অ্যাডহক কমিটি প্রসঙ্গে জেলা শাখার একাংশের সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, ভূঞাপুরের ওই কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে শিক্ষক সমিতির আরেক অংশের জেলা সভাপতি শামিম আল মামুন জুয়েল বলেন, প্রথমে ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে মেয়াদ বাড়ানো হলেও কেন এখনো নির্বাচন হয়নি, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।
অভিযোগের বিষয়ে সেলিমুজ্জান সেলু বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শিক্ষক সমিতির কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এদিকে টাঙ্গাইলের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au