কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে সীমান্তবর্তী…
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- কানাডায় প্রয়োজনীয় উচ্চতর পাইলট লাইসেন্স ছাড়াই প্রায় ১৭ বছর ধরে শত শত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে এয়ার কানাডার এক সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্টারিওর পিল আঞ্চলিক পুলিশ জানিয়েছে, চার মাসব্যাপী তদন্তের পর ৫৯ বছর বয়সী সাবেক ক্যাপ্টেন জিওফ্রি ওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জাল লাইসেন্স ও ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াল এয়ার কানাডা এবং কানাডার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের যোগ্যতা ও লাইসেন্সসংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেছিলেন। তদন্তে দেখা গেছে, তার বৈধ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও বড় বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স’ ছিল না।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার একটি, জাল নথি ব্যবহারের দুটি, নকল ট্রেডমার্ক সংরক্ষণের তিনটি এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
পিল আঞ্চলিক পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইয়াপ্পাহ এক বিবৃতিতে বলেন, অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে এটি জননিরাপত্তা ও বিমান চলাচল ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ৯০০-এর বেশি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে কয়েক লাখ যাত্রীর নিরাপত্তাকে সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন।
তবে এয়ার কানাডা দাবি করেছে, এ ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা কোনো সময়ই হুমকির মুখে পড়েনি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, তাদের সব পাইলটকে প্রতি ছয় মাস অন্তর দক্ষতা মূল্যায়নের প্রশিক্ষণ এবং বছরে অন্তত একবার অনুমোদিত প্রশিক্ষক পাইলটের তত্ত্বাবধানে ফ্লাইট পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
এয়ারলাইনটি আরও জানিয়েছে, ওয়াল নিয়মিত এসব প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং বড় উড়োজাহাজ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। বিষয়টি জানার পরপরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং স্বেচ্ছায় ঘটনাটি ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে জানানো হয়। পরবর্তী নিরীক্ষায় অন্য কোনো পাইলটের লাইসেন্সসংক্রান্ত অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান নিরাপত্তাবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান ও লাইসেন্সধারী পাইলট হাসান শাহিদি ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিরল বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগ সত্য হলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো একজন অযোগ্য ব্যক্তি বিমান চালিয়েছেন কি না, তা নয়; বরং একজন পাইলট কীভাবে এত বছর ধরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজর এড়িয়ে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন।
তার মতে, ঘটনাটি কানাডার লাইসেন্স যাচাই ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au