কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা করা ১২ জনকে আটকে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ জুন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শুক্রবার সকালে সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানিয়েছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তসংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দেন।
সূত্র জানায়, বর্তমানে ওই ১২ জন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার করিমপুর উপজেলার চর মেঘনা এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী, চারজন পুরুষ এবং চারজন শিশু রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে ভূমিকা রাখেন। তাদের উপস্থিতি এবং বিজিবির কড়া অবস্থানের কারণে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পাঠাতে পারেনি।
কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বিশেষ করে রাতের আঁধারে পুশইনের চেষ্টা করছে। তবে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের সব ধরনের চেষ্টা প্রতিহত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় পুশইনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক বিষয়গুলোকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। বিজিবি অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রেখেছে এবং সীমান্তবর্তী জনগণকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।