কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ জুন- মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে সীমান্তবর্তী মনু নদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মুজিবুর রহমান। তিনি কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং অজিব উল্লাহর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দাবি, শুক্রবার বিকেলে মুজিবুর রহমান মনু নদীতে মাছ ধরতে যান। মাছ ধরার একপর্যায়ে তিনি ভুলবশত সীমান্তের ভারতীয় অংশে প্রবেশ করলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তবর্তী নদী ও চরাঞ্চলে জীবিকার তাগিদে প্রায়ই মানুষ মাছ ধরতে যান। তবে সীমান্তের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা ঘটে।
শরীফপুর ইউনিয়নের সদস্য জয়নুল ইসলাম জানান, নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে তিনি মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএসএফ গুলিবিদ্ধ মুজিবুর রহমানকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তার মরদেহ সেখানেই রয়েছে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, সীমান্তে গুলির ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সীমান্তে গুলির ঘটনার তথ্য তারা পেয়েছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ওই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আসিফ মহিউদ্দিনও সীমান্তে গুলির ঘটনার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিএসএফ গুলিবিদ্ধ ওই যুবককে ভারতীয় হাসপাতালে নিয়ে গেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হতাহতের ঘটনা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুসরণের দাবি জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, গুলিবর্ষণের পরিস্থিতি এবং নিহত যুবকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।