অবসরের দুদিন আগে বাসা থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মনোজ কান্তি দাসের মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: অবসরে যাওয়ার মাত্র দুই দিন আগে সিলেট নগরীর নিজ বাসা থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬)…
মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই: বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হওয়ার লড়াইয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) শেয়ারবাজারে লেনদেন চলাকালে প্রথমবারের মতো ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য স্পর্শ করে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্য দিয়ে এনভিডিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল অ্যাপল।
লেনদেনের একপর্যায়ে অ্যাপলের শেয়ারদর বেড়ে ৩৪২ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছালে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫ দশমিক ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে দিনের শেষ দিকে শেয়ারদর কিছুটা কমে ৩৩৯ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে আসে। ফলে বাজারমূল্যও সামান্য কমে প্রায় ৪ দশমিক ৯৮ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। যদিও দিনের শেষে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ধরে রাখতে পারেনি, তবুও এই সীমা স্পর্শ করেই নতুন ইতিহাস গড়ে অ্যাপল।
এর আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক উত্থানের সুবাদে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল। তবে চলতি মাসের শুরুতেই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানের অবস্থান পুনরুদ্ধার করে অ্যাপল। মঙ্গলবারের লেনদেন শেষে এনভিডিয়ার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলের এই উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে শক্তিশালী পণ্য বিক্রি, স্থিতিশীল মূল্যনীতি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কৌশল। প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান যখন এআই অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, তখন অ্যাপল তুলনা মূলকভাবে কম ব্যয়ের পথ বেছে নিয়েছে।
নিজস্ব বিশাল এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন সেবা যুক্ত করছে। নতুন সংস্করণের সিরি তারই একটি উদাহরণ। এতে বিপুল বিনিয়োগ ছাড়াই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। বিআরআই ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের বিনিয়োগ বিভাগের প্রধান টনি মেডোজ বলেন, একসময় অ্যাপলকে এআই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত অ্যাপলের শেয়ারদর প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে এনভিডিয়া, মেটা, অ্যালফাবেট ও মাইক্রোসফটস হ প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান গুলোর অনেককেই প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে কোম্পানিটি।
শুধু শেয়ার বাজারেই নয়, বিক্রিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে অ্যাপলের কৌশল। সম্প্রতি নতুন ম্যাকবুক ও আইপ্যাডের দাম বাড়ানো হলেও আইফোনের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে দাম বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় অনেক ক্রেতাই আগেভাগে নতুন আইফোন কিনেছেন, ফলে স্মার্টফোন বিক্রি উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।
একই দিনে অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ‘ডিভাইস লিজিং’ কর্মসূচিও চালু করেছে। অর্থ পরিশোধ সেবা প্রতিষ্ঠান ক্লারনার সহযোগিতায় চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় মাসিক কিস্তিতে আইফোন, অ্যাপল ওয়াচ, আইপ্যাড ও ম্যাক ব্যবহারের সুযোগ পাবেন গ্রাহকরা। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের পরিবর্তে সহজ কিস্তির সুবিধা নতুন গ্রাহক বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি গ্রাহকের ব্যবহার-অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কৌশলও অ্যাপলের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাপলের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। এআই প্রতিযোগিতায় একসময় সমালোচনার মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানটির জন্য এই অর্জন বড় ধরনের আত্মবিশ্বাসের বার্তা বলেই মনে করছেন তারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au