নিউ জার্সির মরিসটাউন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩১ জুলাই ২০২৬।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তিতে দ্রুত পৌঁছানোর আশায় যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে। অথচ এর মাত্র এক দিন আগে তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সাময়িকভাবে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ, সম্ভাব্য একটি চুক্তির মৌলিক কাঠামো বা প্রধান শর্তগুলো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গড়ে উঠছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ওই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত হুমকির অবসানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। তবে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে একমত বলে জানান ট্রাম্প।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র শনিবার অথবা রোববারের মধ্যে ইরানে হামলা চালাতে পারে। মার্কিন দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সে সময় এ তথ্য প্রকাশ করেছিল সিএনএন। তবে পরদিনই তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দেওয়ার কথা জানান।
সম্ভাব্য নতুন চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “সবাই কাজে নেমে পড়ুন এবং এটি সম্পন্ন করুন।”
এদিকে ট্রাম্পের এ ঘোষণার আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অঞ্চলটি ত্যাগের বিষয় বিবেচনা করতে অথবা স্বল্প নোটিশে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানায়। সম্ভাব্য সংঘাতের কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের সামরিক হুমকির জবাবে ইরান আগেই যেকোনো ‘বেপরোয়া পদক্ষেপের’ বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালালে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্র এবং কাতার ও ইসরায়েলের গ্যাসক্ষেত্র লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। দুই দেশের সংঘাত ঘিরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত জুনে দুই দেশের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আলোচনার পথ তৈরি হলেও জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির অবসান ঘোষণা করেন। এরপর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।