তেহরানে দাফন করা হয় দুই বছর বয়সী জয়নাব সাহেবিকে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত শিশুটির কফিনের পাশে পড়ে ছিল তার প্রিয় একটি পুতুল। ৭ মার্চ ২০২৬।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইরান ও এর প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে শিশু হতাহতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইরানেই নিহত ও আহত শিশুর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক আবদুল ফোফানা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান সংঘাতের কারণে শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত বাড়ি, বিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকাগুলোও আর নিরাপদ নেই। সেখানে প্রাণ হারাচ্ছে এবং আহত হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছে অসংখ্য শিশু।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ জুলাই ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলায় মা-বাবার সঙ্গে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুই শিশু।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে সংঘাতের কারণে ৪ হাজারের বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। এর মধ্যে ইরানে নিহত হয়েছে ৩৮৬ শিশু এবং আহত হয়েছে আরও ২ হাজার ১১৭ জন। ফলে দেশটিতে মোট হতাহত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আড়াই হাজারেরও বেশি।
আবদুল ফোফানা বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করেছে যে, চলমান সংঘাতে সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে শিশুরা। যে যুদ্ধ তারা শুরু করেনি এবং যার অবসান ঘটানোর কোনো ক্ষমতাও তাদের নেই, সেই যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।
ইউনিসেফ সংঘাতে জড়িত সব পক্ষের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন, অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং যেখানেই থাকুক না কেন, সব শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র:রয়টার্স