বেরোবিতে কেন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল ছাত্রদল-শিবির
মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রশিবিরের আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের…
মেলবোর্ন, ৩ আগস্ট: অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশনের শীর্ষপর্যায়ে বড় ধরনের সাংগঠনিক রদবদল আনা হয়েছে। দলের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও পলিন হ্যানসনের চিফ অব স্টাফ জেমস অ্যাশবিকে জাতীয় পর্যায়ের পার্টি ডিরেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের শীর্ষ উপদেষ্টা ক্রিস টেলরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ওয়ান নেশন নেতা পলিন হ্যানসনের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে।
দ্য অস্ট্রেলিয়ান-এর রাজনৈতিক সম্পাদক জিওফ চেম্বার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন দায়িত্বে জেমস অ্যাশবি দলের জাতীয় কার্যক্রম, নির্বাচনী প্রচার, বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর তদারকি করবেন। আর ক্রিস টেলর হ্যানসনের সংসদীয় দপ্তর পরিচালনার পাশাপাশি আগামী ফেডারেল নির্বাচন সামনে রেখে ওয়ান নেশনের নীতিগত কর্মসূচি চূড়ান্ত করার দায়িত্ব পালন করবেন।
পলিন হ্যানসন দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক নিউস্পল জরিপে ওয়ান নেশনের প্রাথমিক ভোটের সমর্থন ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ওয়ান নেশনের কাছ থেকে বেশি প্রত্যাশা করছে।
ক্রিস টেলর করোনাভাইরাস মহামারির সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের জেনারেল কাউন্সেল ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী হিসেবে তাঁর প্রায় ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। শিল্পসম্পর্ক, আইন প্রণয়ন, সরকারি নীতি ও নিয়ন্ত্রক বিষয়েও তিনি মরিসন সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সম্প্রতি তিনি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাংকিং অ্যাসোসিয়েশনের নীতিবিষয়ক প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী আনা ব্লাই এবং সাবেক ফেডারেল অর্থমন্ত্রী সাইমন বার্মিংহামের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচার এবং বেসরকারি খাতের জ্যেষ্ঠ পদেও কাজ করেছেন তিনি।
টেলরের নিয়োগের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের আগে ওয়ান নেশনের পেশাদারিত্ব ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটি সাম্প্রতিক সময়ে কোয়ালিশন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাতা, কর্মকর্তা ও নির্বাচনী প্রচারককে নিজেদের দলে যুক্ত করেছে। আগামী কয়েক মাসে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রিস টেলর বলেন, সরকার, ব্যবসা ও রাজনীতির জটিল সমস্যাগুলো মোকাবিলা করেই তিনি তাঁর কর্মজীবন কাটিয়েছেন।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভালো দিনগুলো অতীতে পড়ে আছে—এমনটি তিনি বিশ্বাস করেন না। দেশের মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাঁদের সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে, এমন রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। পলিন হ্যানসন ও তাঁর দল সেই কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন টেলর।
২০১৫ সাল থেকে জেমস অ্যাশবি পলিন হ্যানসনের চিফ অব স্টাফ ও প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ওয়ান নেশনের নির্বাচনী প্রচারব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। দলটির আলোচিত ‘ফায়ার দ্য লায়ার’ প্রচারাভিযানসহ বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
নতুন পার্টি ডিরেক্টর হিসেবে অ্যাশবি এখন দলের জাতীয় নির্বাচনী কার্যক্রম, প্রার্থী বাছাই, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রচার কৌশল শক্তিশালী করার কাজে পূর্ণকালীন সময় দিতে পারবেন।
পলিন হ্যানসন বলেন, তিনি চান অ্যাশবি নির্বাচনী প্রচার দলের সঙ্গে পূর্ণকালীনভাবে কাজ করুন, সংগঠনকে শক্তিশালী করুন এবং ওয়ান নেশনের বক্তব্য সরাসরি অস্ট্রেলিয়ার মানুষের কাছে পৌঁছে দিন।
অ্যাশবির ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে এখন একটি প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে উপেক্ষিত মানুষের কথা শোনা এবং তাঁদের বক্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে তুলে ধরা।
তিনি বলেন, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পেছনে বিশাল নির্বাচনী ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ওয়ান নেশনের পক্ষেও এমন অস্ট্রেলিয়ানরা রয়েছেন, যাঁরা উন্নত দেশের জন্য দাঁড়াতে এবং লড়াই করতে প্রস্তুত।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আগামী ফেডারেল নির্বাচনে অ্যাশবি নিজেও প্রার্থী হতে পারেন। নতুন দায়িত্ব তাঁকে ভোটারদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানো, শক্তিশালী স্থানীয় প্রার্থী খুঁজে বের করা এবং ওয়ান নেশনের রাজনৈতিক বার্তা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ দেবে।
অ্যাশবির নতুন দায়িত্ব এমন এক সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে, যখন ওয়ান নেশন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সিক্রেট হারবার উপনির্বাচন, নভেম্বরের ভিক্টোরিয়া রাজ্য নির্বাচন এবং আগামী মার্চের নিউ সাউথ ওয়েলস নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ান নেশনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি অংশ মনে করছে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নির্ধারিত সময়ের আগেই ফেডারেল নির্বাচন ঘোষণা করতে পারেন। তাঁদের ধারণা, ২০২৭ সালের আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের শুরুর দিকের যেকোনো সময়ে নির্বাচন হতে পারে। পরবর্তী ফেডারেল নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে ২০২৮ সালের মে মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
জেমস অ্যাশবি বর্তমানে তাঁর পাইলটের লাইসেন্স হালনাগাদ করছেন। অস্ট্রেলীয় ধনকুবের জিনা রাইনহার্ট ওয়ান নেশনকে যে পাঁচ আসনের উড়োজাহাজ দিয়েছেন, সেটি ব্যবহার করে তিনি পলিন হ্যানসনের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পলিন হ্যানসন দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক নিউস্পল জরিপে ওয়ান নেশনের প্রাথমিক ভোটের সমর্থন ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ওয়ান নেশনের কাছ থেকে বেশি প্রত্যাশা করছে।
হ্যানসন বলেন, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ অস্ট্রেলিয়ানদের কথা শোনা বন্ধ করে দিয়েছে। মানুষ এখন একটি রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছে এবং ওয়ান নেশন তাদের পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল সফর করে পরিবার, ব্যবসা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের অগ্রগতির পথে কী ধরনের বাধা রয়েছে, তা তিনি মানুষের কাছ থেকে জানতে চাইছেন। এসব বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা পরবর্তী ফেডারেল নির্বাচনের জন্য ওয়ান নেশনের নীতিগত কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আগামী মঙ্গলবার ফেডারেল পার্লামেন্টের অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে পলিন হ্যানসন ওয়ান নেশনের প্রস্তাবিত ‘প্রোটেক্টিং অস্ট্রেলিয়ানস ফ্রম ফরেন টেররিস্ট ফাইটার্স বিল’ নিয়ে প্রচার চালাবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অস্ট্রেলীয় নাগরিক এবং আইএস-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ভোটারদের উদ্বেগ তুলে ধরে তিনি লেবার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au