রাশিয়ার আরও বড় হামলা, এক রাতেই রক্তস্রোত কিয়েভে।
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট:ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (৫ আগস্ট) মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া এই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২২ জনের বেশি আহত হয়েছেন। চলতি বছরে কিয়েভে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, গভীর রাতে রাশিয়া রাজধানী ও আশপাশের এলাকাকে লক্ষ্য করে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। হামলা শুরুর পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। এ সময় বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কিয়েভের বিভিন্ন এলাকা এবং বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যান।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন, গুদামঘর ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বোরিসপিল জেলায় নয়জন, বুচা জেলায় চারজন এবং ফাস্তিভ জেলায় একজন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, শহরের কেন্দ্রীয় অংশে হামলার পর বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা গুরুতর এবং অনেক এলাকায় উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
হামলার পর ইউক্রেনের সামরিক প্রশাসন অভিযোগ করেছে, রাশিয়া আবারও পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক মানুষ এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। যদিও এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থাপনা, বিশেষ করে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও গুদাম লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। মঙ্গলবার মস্কো অঞ্চলের ওয়াইল্ডবেরিজ গুদামে ইউক্রেনের হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া।
এর আগের দিন রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি ব্যস্ত সমুদ্রসৈকতে ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন দেশটির কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে এক ব্যক্তিকে ড্রোন দিয়ে তাড়া করার ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় কিয়েভ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইউক্রেনের দাবি, এটি বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার প্রমাণ। তবে যুদ্ধের শুরু থেকেই উভয় পক্ষই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই প্রাণঘাতী হামলাগুলো প্রমাণ করছে যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি ক্রমেই বাড়ছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোর মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।