বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন আবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য নেশন এক সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কারণে তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থান, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি সুযোগও সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে শেখ হাসিনার ভারত থেকে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি বিষয়। এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার আয়োজন না করলেও ভারতের ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এর কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।
এতে আরও দাবি করা হয়, শেখ হাসিনা শুধু একজন নির্বাসিত রাজনীতিক নন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের সহিংস দমন-পীড়নের ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলেও সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে বলেও দাবি করা হয়। সম্পাদকীয়র ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে আশ্রয় দিয়ে যাওয়ার ভারতের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দ্য নেশন-এর সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব শুধু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত মিলছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের কোনো পদক্ষেপ যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে তা ঢাকাকে বেইজিং ও ইসলামাবাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে বলে সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করা হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত হয়তো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে এই কৌশল উল্টো ভারতে বিরূপ জনমত বাড়াতে পারে এবং বাংলাদেশকে অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে উৎসাহিত করতে পারে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
সম্পাদকীয়র উপসংহারে বলা হয়, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নে পরস্পরবিরোধী বার্তা কার্যকর নয়। যদি ভারত সত্যিই বাংলাদেশের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, তবে নিশ্চিত করতে হবে যে ভারতের ভূখণ্ড বাংলাদেশের সরকারকে অস্থিতিশীল বা বিব্রত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।
নিউজনাউ/আহাআ/২০২৬