বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট ভারত থেকে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অংশ নেবেন।" (রয়টার্স)
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ভারত থেকে ভার্চুয়ালি আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বক্তব্য রাখবেন। তবে এ আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।
ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) সাউথ এশিয়া আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলন ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার ঢাকা ত্যাগের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনটি ইন্টারঅ্যাকটিভ হবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা শেখ হাসিনাকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে ঢাকায় চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেও বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ওয়ায়েল আওয়াদ। প্রায় ৯০ মিনিটব্যাপী এ আয়োজন ক্লাবটির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতারও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ত্যাগের পর থেকেই শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের ঘটনায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন। তবে শেখ হাসিনা ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার এবং রায় উভয়ই প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে নির্বাসিত বাংলাদেশি নেতাদের ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা বক্তব্য দেওয়া ঠেকাতে অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডের সংবাদ পরিবেশনের বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলোর জন্যও নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনটি ভারত সরকারের কোনো কর্মসূচি নয়। এটি বিদেশি সাংবাদিকদের একটি স্বাধীন সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা মূলত লিখিত বিবৃতি, রেকর্ড করা অডিও বার্তা এবং সীমিত পরিসরে সংবাদপত্রে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনটি হবে দেশ ছাড়ার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার প্রথম সরাসরি ও উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব।
আওয়ামী লীগের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবেন এবং দেশের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসার অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করবেন।
সূত্র : ফার্স্টপোস্ট কম