যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪ আগস্ট ২০২৬, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি সেখান থেকে নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসের উদ্দেশে রওনা হন। —রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে তেহরানকে ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত’ করা হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ক্যালিফোর্নিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং বুধবার কিংবা তার পরের দিনই একটি সমঝোতা হতে পারে।
এর আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। অন্যথায় তারা খুব কঠোরভাবে আঘাতের মুখে পড়বে। এরপরও প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।”
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে মতবিরোধই সাম্প্রতিক আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পরও বিষয়টি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। দেশটি প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের ক্ষমতা চায়, যা যুদ্ধের আগে কার্যকর ছিল না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বুধবার বা বৃহস্পতিবারের মধ্যেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির। মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর একজন নাবিক নিখোঁজ হন। একই দিনে ইয়েমেন উপকূলের কাছে লোহিত সাগরে হামলার শিকার হয়ে একটি ভারতীয় জাহাজ ডুবে যায়। তবে ওই হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।
গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য তিনি ইঙ্গিত দেন, একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না বলে দাবি করেছে। যদিও ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রও সম্পৃক্ত রয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমান একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আঞ্চলিক ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালিতে ৬০ দিনের জন্য নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হবে। ওয়াশিংটন বুধবারই এ চুক্তির ঘোষণা দিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাও ওয়াশিংটনের অন্যতম কূটনৈতিক লক্ষ্য। তবে এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প।
তিনি এর আগে ইরানকে ‘দ্বিমুখী’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, কোনো সমঝোতা বা ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন পাল্টা অবরোধ বহাল থাকবে।পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও ইরান এখনো এ অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর স্থাপনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে লোহিত সাগরেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করায় ওই অঞ্চলের নৌপথের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে দেশটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে।
তবে হুথিদের অবরোধ ঘোষণার পর থেকে তারা একাধিক জাহাজে হামলার দাবি করেছে। মঙ্গলবার ইয়েমেন উপকূলের কাছে লোহিত সাগরে ভারতীয় জাহাজ এমএসভি ফাইজ নূরে অলিয়া হামলার শিকার হয়ে ডুবে যায়। তবে জাহাজটির সব নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র:ডাউন কম নিউজ