স্বামীর জানাজা-দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. দীপু মনিকে স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট- তীব্র গ্যাস–সংকটে নরসিংদীর ছোট-বড় শতাধিক শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকায় অনেক কারখানায় পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে কারখানার শ্রমিকেরা কর্মহীন অবস্থায় সময় কাটাচ্ছেন, আর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন শিল্পমালিকেরা। একই সঙ্গে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলছে না এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
শিল্পমালিকেরা জানান, গ্যাস–সংকট নরসিংদীতে নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পকারখানাগুলো প্রয়োজনের তুলনায় কম চাপের গ্যাস পাচ্ছিল। স্বাভাবিক সময়ে শিল্পকারখানায় প্রায় ১৫ পিএসআই চাপের গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা কমে ২ থেকে ৪ পিএসআইয়ের মধ্যে ছিল। কম চাপের মধ্যেও বিভিন্ন কারখানা পালাক্রমে ও বিকল্প পদ্ধতিতে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয় এবং অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
শিল্পমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানাগুলো সীমিত সক্ষমতায় চলছিল। কোনো কোনো কারখানায় ১০ শতাংশের মতো উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের চাপ একেবারে কমে যাওয়ায় শতাধিক কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সংকট কত দিনে কাটবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য না থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন তাঁরা।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল নরসিংদী। বিশেষ করে মাধবদী ও নরসিংদী শহর এবং আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক টেক্সটাইল, ডাইং, স্পিনিং, সাইজিং ও প্রিন্টিং কারখানা রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের স্থানীয় কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ নরসিংদীর বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ করা হয়। জেলায় টেক্সটাইল, ডাইং ও স্পিনিং মিলের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি।
বর্তমানে নরসিংদী শহর ও আশপাশের এলাকায় চিশতিয়া সাইজিং মিল, ইয়ামিন সাইজিং মিল, মমিন সাইজিং মিল, হোসেন ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং মিল, আবেদ টেক্সটাইল মিলস, শিল্পী ডাইং, নদী-বাংলা সাইজিং মিল, ভূঁইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালেন্ডার মিলস, আনোয়ার প্রিন্টেক্স, রংধনু সাইজিং মিল, এন আহমেদ ডাইং ও নাসির ডাইংসহ বেশ কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
এ ছাড়া মাধবদীর আমানত শাহ গ্রুপ ও পাকিজা গ্রুপের একাধিক কারখানা, এম এম কে ডাইং, মুক্তাদিন ডাইং, মাধবদী ডাইং, মুক্তা ডাইং ও সখিনা ডাইংসহ আরও বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।
গ্যাস–সংকটের কারণে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন নরসিংদীর শিল্পমালিকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন বন্ধ থাকার পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন, কারখানার গ্যাস বিল, ব্যাংকঋণের কিস্তি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
নরসিংদী টেক্সটাইল, ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং মাধবদী ডাইং ফিনিশিং মিলসের মালিক নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, নরসিংদীর শিল্পকারখানাগুলো দেশের কাপড়ের বড় একটি অংশের চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু গ্যাসের সংকটে অনেক মিল ও কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন এবং গ্যাসের বিল পরিশোধ করাও শিল্পমালিকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রাশিদুল হাসান বলেন, ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বাড়ানোর পর নরসিংদীতে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁর ভাষ্য, এত দিন সার কারখানাটি প্রায় ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছিল। আমদানি কমিয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর এটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো হচ্ছে। ফলে শিল্পকারখানার জন্য নির্ধারিত গ্যাসের একটি বড় অংশ সার কারখানায় চলে যাওয়ায় স্থানীয় শিল্পগুলো চাপের মুখে পড়েছে।
গ্যাসের সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভূঁইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালেন্ডার মিলস লিমিটেডের পরিচালক আনিসুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, এই সংকট কবে নাগাদ সমাধান হবে। সংকট কত দিন চলবে, তা না জানায় শিল্পমালিকেরা কোনো পরিকল্পনাও করতে পারছেন না।
আবেদ টেক্সটাইল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তাঁদের কারখানায় প্রায় ২০ দিন ধরে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বসিয়ে না রেখে যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে রাখা হচ্ছে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কারখানার আর্থিক ক্ষতিও বাড়তে থাকবে।
শিল্পকারখানার পাশাপাশি গ্যাসের সংকটে ভুগছেন সাধারণ গ্রাহকরাও। বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ এতটাই কমে গেছে যে রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। অন্যদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় গাড়ির জট ও দীর্ঘ অপেক্ষার সৃষ্টি হচ্ছে।
তিতাস গ্যাসের নরসিংদী আঞ্চলিক বিপণন কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মাকসুদ রহমান বলেন, এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে নরসিংদীসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও পরিবহন খাতে। দ্রুত সংকট নিরসনে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
শিল্পমালিকেরা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শুধু নরসিংদীর শিল্পখাতই নয়, দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাকের সরবরাহব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানাগুলোর আর্থিক ক্ষতি যেমন বাড়ছে, তেমনি সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। তাই শিল্পখাতকে সচল রাখতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au