স্বামীর জানাজা-দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. দীপু মনিকে স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। তিনি ঢাকার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ভারতীয় বার্তাসংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করা কূটনৈতিকভাবে উপযুক্ত নয় বলে মনে করেন তিনি।
বীণা সিক্রি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছে, সেটি অত্যন্ত রূঢ় ও অহংকারী। তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং সফরের তারিখ ও অন্যান্য প্রস্তুতির বিষয়েও কাজ চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান ভারত সফরে যাচ্ছেন না, এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তাই সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা অপ্রয়োজনীয় বলেও মনে করেন তিনি।
বীণা সিক্রির দাবি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে দুইবার ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রথম আমন্ত্রণটি দেওয়া হয়েছিল গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর। ওই সময় তারেক রহমান ও তার পরিবারকে সুবিধাজনক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, তখন ধারণা করা হয়েছিল, তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য ভারত হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এরপর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ থেকে ওই আমন্ত্রণের বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বীণা সিক্রি আরও জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যও ভারত তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সেই আমন্ত্রণেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গে বীণা সিক্রি বলেন, প্রত্যর্পণ একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কোনো ব্যক্তির প্রত্যর্পণের আবেদন করার পর আইনি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে হয়। ফলে একটি দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের সঙ্গে এই প্রক্রিয়াকে সরাসরি যুক্ত করা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কয়েক বছর পর্যন্ত চলতে পারে। তাই এ বিষয়টির সঙ্গে তারেক রহমানের ভারত সফরকে যুক্ত করার দাবি অপ্রয়োজনীয় এবং কূটনৈতিকভাবে অনুপযুক্ত।
বীণা সিক্রি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য বর্তমানে সময়ের একটি সীমিত সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সফরের প্রস্তুতি চলার সময় এমন বক্তব্য সামনে আসায় সফরটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা থাকা স্বাভাবিক। তবে সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে কঠোর মন্তব্য না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।
এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য সৌহার্দ্যপূর্ণ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সফর নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
সুত্রঃ এএনআই
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au