নেপালে আকস্মিক বন্যা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ১০৫ ভারতীয়সহ মোট ৩৮৪ পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার সকালে ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার পর রাসুয়া জেলার তিমুরে ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়।
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় এই আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, যানবাহন ও বিভিন্ন অবকাঠামো পানির স্রোতে ভেসে গেছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় থাকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল স্রোতে মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক। বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়ও রয়েছেন।
বন্যার পর নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিকভাবে পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। তিব্বতের দিক থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে আসার পর নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। এর প্রভাবে রাসুয়া জেলার তিমুরে ও সায়াফ্রুবেসি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বন্যার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের ধারণা, তিব্বতের দিকে ভূমিধস বা বরফ-পাথরের ধসের কারণে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে পরে হঠাৎ বিপুল পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য বরফ-পাথরের ধসের পাশাপাশি একটি ভূমিকম্পের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
এদিকে বন্যার প্রভাবে নেপালের পাশাপাশি ভারতের বিহারেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপাল থেকে নেমে আসা নদীগুলোর পানি বাড়ার আশঙ্কায় বিহারের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। গান্ডক নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নেপালের এই ভয়াবহ বন্যায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে নিখোঁজদের তালিকাটি প্রাথমিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের অবস্থান ও নিরাপত্তার তথ্য যাচাই করছে।
সূত্র: এনডিটিভি