বাংলাদেশ

রংপুর ট্রাজেডি

গণপতি পরিবার হত্যাকাণ্ডে পূর্ণ রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবিতে শাহবাগে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

  • 10:18 pm - August 26, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৫৬ বার

মেলবোর্ন, ২৬ আগস্ট: রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বেলা ১১টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং ঢাকায় অবস্থানরত রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে মানববন্ধনে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকেরা।

অংশগ্রহণকারীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

‘একটি পরিবারের হত্যাকাণ্ড পুরো সমাজকে নাড়া দিয়েছে’

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একই পরিবারের চার সদস্যকে এভাবে হত্যা করার ঘটনা শুধু তাঁদের স্বজনদের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তদন্তে কোনো ধরনের ফাঁকফোকর, গাফিলতি বা প্রভাবের কারণে প্রকৃত সত্য যেন আড়ালে থেকে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তাঁরা তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অসংগতি চিহ্নিত করে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার বা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর নির্ভর করে তদন্ত শেষ করা উচিত হবে না। ডিজিটাল তথ্য, ফরেনসিক আলামত, মোবাইল ফোনের রেকর্ড, প্রত্যক্ষ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যসহ সব প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আনতে হবে।

ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের বার্তা নিয়ে প্রশ্ন

আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নিহত পরিবারের সদস্য আগামী চক্রবর্তী ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে এক বান্ধবীকে তাঁদের বাসায় বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, আসামিদের ভাষ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডটি মধ্যরাতে সংঘটিত হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন—হত্যাকাণ্ড যদি মধ্যরাতে ঘটে থাকে, তাহলে ভোরে আগামী চক্রবর্তীর ফোন থেকে কে বার্তা পাঠিয়েছিল?

তাঁদের মতে, এই দুই তথ্যের মধ্যে গুরুতর অসংগতি রয়েছে। বার্তাটি কোন ডিভাইস থেকে, কোন অবস্থান থেকে এবং ঠিক কখন পাঠানো হয়েছিল, তা ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি।

আরো পড়ুন

দুই চোখ ছিল না আগামী চক্রবর্তীর, ঘাড়ে ছিল কোপের আঘাত, শরীরে ছিল না পোষাক

সিঁড়িতে মা-মেয়ের ক্ষতবিক্ষত লাশ, চার মৃতদেহের বর্ণনা দিতেও ভয় পাচ্ছেন স্বজনরা

বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সিসিটিভি অকার্যকর হওয়ার কারণ অনুসন্ধানের দাবি

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ কখন বন্ধ হয়েছিল, কতক্ষণ বন্ধ ছিল এবং সেটি স্বাভাবিক বিভ্রাট নাকি পরিকল্পিত কোনো ঘটনার অংশ—তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তাঁরা।

একই সঙ্গে পাশের মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরা হঠাৎ অকার্যকর হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরাটি আগে থেকে নষ্ট ছিল, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বন্ধ হয়েছিল, নাকি উদ্দেশ্যমূলকভাবে অকার্যকর করা হয়েছিল—প্রযুক্তিগত পরীক্ষার মাধ্যমে তার উত্তর বের করতে হবে।

আগামী কি আগে থেকেই কোনো হুমকিতে ছিলেন?

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, আগামী চক্রবর্তী গত মে মাসে এক বান্ধবীর কাছে থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করার বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

তিনি কারও কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন কি না, কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁর আশঙ্কা ছিল কি না কিংবা কোনো ঘটনার পর তিনি আইনি সহায়তার কথা ভেবেছিলেন কি না—এসব বিষয়ও তদন্তকারীদের গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ জন্য তাঁর ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য আইনসম্মতভাবে পরীক্ষা করার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

পরিবারটি প্রায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার বিষয়েও প্রশ্ন

শিক্ষার্থীরা বলেন, পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের আগে তাঁরা প্রায় দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। এই সময়ে তাঁদের খোঁজে প্রতিবেশী, পরিচিত ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পরিবারটির সঙ্গে সর্বশেষ কারা যোগাযোগ করেছিলেন, কারা বাড়ির আশপাশে যাতায়াত করেছিলেন এবং নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয় পুনর্গঠন করে দেখার আহ্বান জানান তাঁরা।

প্রতিটি প্রশ্নের প্রমাণভিত্তিক উত্তর চায় শিক্ষার্থীরা

মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁরা কোনো অনুমান বা পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত চান না। প্রতিটি প্রশ্নের বিজ্ঞানসম্মত, স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিক উত্তর চান।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ সত্য জাতির সামনে প্রকাশ করার দাবি জানান তাঁরা।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের জন্য বিশ্বাসযোগ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি এবং জনমত গঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

এই শাখার আরও খবর

জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সাংবাদিকতার কারণে তিন সাংবাদিকের জামিন নাকচ, অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি আইএফজের

মেলবোর্ন, ২৬ আগস্ট: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন ও অভ্যুত্থান নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ঘটনায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার…

মক্কা প্যাক্ট—বিএনপির জন্য পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত, নাকি রাজনৈতিক টিকে থাকার পরীক্ষা?

মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দেয়নি। তবে বিএনপি…

সেনার পোশাকে বাড়িতে ঢুকে চা খেয়ে ২৩ কাশ্মীরি পণ্ডিতকে হত্যা, ২৮ বছর পর ফের তদন্ত

মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- জম্মু-কাশ্মীরে প্রায় তিন দশক আগে সংঘটিত ভয়াবহ ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নতুন করে শুরু করেছে স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)। ১৯৯৮ সালের ওই হত্যাকাণ্ডে…

‘মক্কা প্যাক্টে’ বাংলাদেশের যোগ দেওয়া উচিত কি না—যেসব ঝুঁকির কথা বলছেন বিশ্লেষক

মেলবোর্ন, ২৬ আগস্ট: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বা ‘মক্কা প্যাক্টে’ বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা প্রশ্ন…

দুই আসামির ডোপ টেস্ট হবে, হত্যাকাণ্ডের সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে পুলিশ

মেলবোর্ন ২৬ আগষ্ট- রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও…

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বজুড়ে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে স্থগিতাদেশ

মেলবোর্ন ২৬ আগষ্ট- বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করে পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই ভিসা সাক্ষাৎকারের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au