ফাইনালে মারামারি কাণ্ডে ফিফার শাস্তি নিয়ে মুখ খুললেন স্পেনের কোচ
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ফিফার শাস্তি নিয়ে মুখ খুলেছেন স্পেনের কোচ লুইস…
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়ায় আবারও পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। জ্বালানি করের সাময়িক ছাড় শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশজুড়ে পেট্রোলের দাম বাড়তে থাকায় চালকদের সতর্ক করেছে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল রোডস অ্যান্ড মোটরিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (এনআরএমএ)।
বুধবার এনআরএমএ জানিয়েছে, নিয়মিত আনলেডেড পেট্রোলের টার্মিনাল গেট মূল্য প্রতি লিটারে ১ দশমিক ৯৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪৪ ডলারে।
তবে পেট্রোল পাম্পে বা খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বেশি। বর্তমানে পেট্রোলের গড় দাম প্রতি লিটারে ২ দশমিক ০৭ ডলার, যা গত ৩০ জুনের তুলনায় ৫১ দশমিক ৭ সেন্ট বেশি। ডিজেলের গড় দাম বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৫৫ ডলার, যা একই সময়ের তুলনায় ৭৫ দশমিক ৯ সেন্ট বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে কয়েক মাস ধরেই অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানির বাজারে ব্যাপক ওঠানামা চলছে। এই পরিস্থিতিতে চালকদের জ্বালানি কেনার আগে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের দাম তুলনা করে দেখার পরামর্শ দিয়েছে এনআরএমএ।
সংস্থাটি জানিয়েছে, সিডনিতে সবচেয়ে সস্তা ও সবচেয়ে দামি পেট্রোল পাম্পের মধ্যে প্রতি লিটারে দামের পার্থক্য প্রায় ৭০ সেন্ট। ফলে একটি গাড়ির পূর্ণ ট্যাংক জ্বালানি ভরতে সবচেয়ে দামি পাম্পে প্রায় ৩৮ দশমিক ৬ ডলার বেশি খরচ হতে পারে।
এনআরএমএর মুখপাত্র পিটার খৌরি চালকদের জ্বালানি কেনার আগে আশপাশের বিভিন্ন পাম্পের দাম যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম পরিবর্তনের তথ্য সরবরাহ করা খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এনআরএমএর মোবাইল অ্যাপ ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা অঞ্চল সরকারের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, সবচেয়ে কম দামের জ্বালানি খুঁজে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আশপাশে বা গন্তব্যের পথে স্বাধীনভাবে পরিচালিত পেট্রোল পাম্প থাকলে সেগুলোর দামও তুলনা করা উচিত। গাড়ির জন্য উপযোগী হলে সাধারণ আনলেডেড পেট্রোলের তুলনায় সাধারণত কম দামের ই১০ পেট্রোল ব্যবহারের কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে।
খৌরি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শেষ না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানির বাজারে অনিশ্চয়তা ও দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সবচেয়ে সস্তা জ্বালানি খুঁজে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালির সংকটকে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথকে ঘিরে উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানির দামে চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা বা সমঝোতা সফল না হওয়ায় বাজারের অনিশ্চয়তাও অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ সরকার জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাময়িকভাবে জ্বালানি কর কমিয়েছিল। গত ১ এপ্রিল থেকে প্রতি লিটারে ৩২ সেন্ট কর ছাড় দেওয়া হয়। পরে জুলাইয়ে এই ছাড় বাড়িয়ে প্রতি লিটারে ১৬ সেন্ট করা হলেও শেষ পর্যন্ত ২ আগস্ট তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে এনআরএমএর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার মানুষের জন্য জ্বালানির বাড়তি দাম বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ মানুষ জ্বালানির ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক করেছে অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশন (এসিসিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বালানি কর বাড়ানোর আগে ও পরে জ্বালানির দাম এবং বাজারের আচরণ তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
এসিসিসি আরও জানিয়েছে, কোনো খুচরা বিক্রেতা জ্বালানির দাম নিয়ে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে অথবা প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্রঃ নিউজ২৪
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au