মানবিক সহায়তায় ৭১ কোটি ইউরো দিচ্ছে ইইউ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ৭১ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর বড়…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পাকিস্তানকে সরাসরি নাম না করে তিনি দেশটিকে ‘সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক অনুশীলনকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না। একই সঙ্গে ভারতের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের কথাও স্পষ্টভাবে জানান তিনি।
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া বক্তব্যে জয়শঙ্কর বলেন, আগের দিন একজন ‘সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক অনুশীলনকারী’ এই পরিষদের সামনে বাস্তবতাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখানো এবং এর পরিণতি থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানে কোনো ধরনের শিথিলতা আসবে না। সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে। তার ভাষায়, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছা একসঙ্গে চলতে পারে না। কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদের পথ অনুসরণ করলে তার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও এর সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন।
জয়শঙ্করের বক্তব্যের আগে জাতিসংঘের একই অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলেন এবং ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি ভারতের সামরিক অভিযানকে আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করে পাকিস্তানের সামরিক পদক্ষেপকে আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
শাহবাজ শরিফ ওই সংঘাতের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি ট্রাম্পের ‘সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের’ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার হস্তক্ষেপকে সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্য হলো, ওই সংঘাতের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান ছিল আত্মরক্ষার অধিকার এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা। জয়শঙ্করের বক্তব্যেও স্পষ্ট করা হয়, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান বদলাবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনটি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং এর সভাপতি বাংলাদেশের কূটনীতিক খলিলুর রহমান। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন মোকাবিলা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au