সংস্কার ছাড়া নিম্ন প্রবৃদ্ধির ফাঁদ থেকে বের হতে পারবে না বাংলাদেশ
প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংস্কার না হলে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন নিম্ন প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সংকটে আটকে থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা…
ওটিএন বাংলা, অস্ট্রেলিয়া:
সিডনির ক্রয়ডন পার্কে গোলাগুলির সময় নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে সহকর্মী ও আহত এক ব্যক্তিকে সহায়তা করায় অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬ সালের জাতীয় সাহসিকতার পুরস্কার পেয়েছেন নেপালি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা বিকাশ ভারতী। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের এই সিনিয়র কনস্টেবল এবার যৌথভাবে পুরস্কারটি অর্জন করেন।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ক্যানবেরায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশ ফেডারেশন অব অস্ট্রেলিয়া তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করে। একই অনুষ্ঠানে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিসও যৌথভাবে পুরস্কৃত হয়।
বিকাশ ভারতী নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের বারউড পুলিশ এরিয়া কমান্ডে কর্মরত। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর ক্রয়ডন পার্কে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় প্রথম সাড়া দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
ঘটনাস্থলে গুলির মুখে পড়েও তিনি একজন জুনিয়র সহকর্মীকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং আহত এক সাধারণ নাগরিককে সহায়তা করেন। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর এই ভূমিকার স্বীকৃতিতেই দেওয়া হয় জাতীয় সম্মাননা।
নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন ভারতীর সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন।
“সিনিয়র কনস্টেবল ভারতী অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। মানুষকে সুরক্ষা ও সেবা দেওয়ার যে শপথ তিনি নিয়েছিলেন, তাঁর কাজে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।”
— ম্যাল ল্যানিয়ন, পুলিশ কমিশনার, নিউ সাউথ ওয়েলস
পুলিশ কমিশনারের মতে, প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা যে নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের পরিচয় দেন, ভারতীর কর্মকাণ্ড তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও ফেডারেল পার্লামেন্টে ভারতীর সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতি দেন।
২০১৫ সালে নেপাল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন বিকাশ ভারতী। জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননা পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, দেশটিতে প্রথম আসার সময় এমন স্বীকৃতির কথা কখনো ভাবেননি।
তবে পুরস্কারটি নিজের একার অর্জন হিসেবে দেখছেন না তিনি। সহকর্মীদের সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক আস্থার কথা উল্লেখ করে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান ক্রয়ডন পার্কের ঘটনায় তাঁর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের প্রতি।
“পুরস্কারে আমার নাম থাকলেও পুলিশের কাজ কখনো একক প্রচেষ্টা নয়।”
— সিনিয়র কনস্টেবল বিকাশ ভারতী
যে দেশ ও সমাজ তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে, তাদের সেবা করার সুযোগ পাওয়ায় কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
তাঁর ভাষায়, “এই ইউনিফর্ম পরতে পেরে আমি গর্বিত। এত নিবেদিতপ্রাণ নারী ও পুরুষের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পেরে গর্বিত এবং এই অসাধারণ সম্মাননার জন্য কৃতজ্ঞ।”
ভারতীর এই অর্জন বিপদের মুখে সাহসিকতার পাশাপাশি পুলিশের কাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার জনসেবায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে আসা মানুষের অবদানের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে তাঁর এই স্বীকৃতি।
নেপাল থেকে অভিবাসী হিসেবে আসা একজন মানুষের অস্ট্রেলিয়ার মানুষের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন এবং সেই কাজের জন্য জাতীয় সম্মাননা পাওয়া নেপালি–অস্ট্রেলীয় কমিউনিটির জন্যও গর্বের উপলক্ষ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au