মেলবোর্ন, ৩ মে- অস্ট্রেলিয়ার ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন নাগরিকরা।
এবিসি নিউজের লাইভ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং গণনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল রাত ৮টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে আসতে পারে।
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য বলছে, প্রাথমিক আভাস অনুযায়ী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের লেবার পার্টি (ALP) ভিক্টোরিয়ায় ৩৮টি আসনের মধ্যে ২৪টি আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে অস্টন, চিশোলম, ম্যাকনামারা ও উইলসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে গ্রিনস ও কোয়ালিশনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কনজারভেটিভ কোয়ালিশন ৮টি আসনে এবং স্বাধীন প্রার্থীরা ২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ ও বিরোধী নেতা পিটার ডাটন ভোট দিয়েছেন এবং উভয়েই আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু কিছু ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন ও ভোটদানের কার্ড নিয়ে বিতর্কের মতো কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদেশি অস্ট্রেলিয়ানরা, এমনকি অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থানরতরাও দূরবর্তী ভোটিং পদ্ধতিতে ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকে AEC (Australian Electoral Commission), যা একটি স্বাধীন সংস্থা, চূড়ান্তভাবে ফলাফল ঘোষণা করবে।
মতামত জরিপ অনুযায়ী, লেবার পার্টি টু-পার্টি প্রেফারড ভোটে ৪৯% এবং কোয়ালিশন ৫১% ভোট পাচ্ছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করতে পারবে না।
অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রিফারেনশিয়াল ভোটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে, যেখানে ভোটাররা তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীদের র্যাংক করেন। যেহেতু কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছে না, তাই ক্ষুদ্র দল ও স্বাধীন প্রার্থীদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলস্বরূপ সরকার গঠনে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে গুরুত্বপূর্ণ সুইং আসনগুলোর ওপর। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল বলা সম্ভব নয়। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যে একটি নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।
মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দলসমূহ
লেবার পার্টি: প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের নেতৃত্বে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে।
কনজারভেটিভ কোয়ালিশন: পিটার ডাটনের নেতৃত্বে বিরোধী দল, যারা এক মেয়াদ বিরতির পর পুনরায় ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।
গ্রিনস পার্টি ও অন্যান্য স্বাধীন প্রার্থীরা: অনেক আসনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে, বিশেষ করে ভিক্টোরিয়া ও কুইন্সল্যান্ডে।