মেলবোর্ন, ২৫ নভেম্বর- কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতা কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয় এবং একটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার রাত ১০টার দিকে জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের উত্তর পাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, দুটি দলের পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির তিনজন এবং জামায়াতের এক কর্মীর অবস্থা গুরুতর। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা বাড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলের তিন কর্মীকে ধারাল অস্ত্রের আঘাতে গুরুতরভাবে আহত করা হয়। একই সময় জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের এক কর্মীও মাথা, হাত ও পায়ে কুপিয়ে জখম হন। পরে পাশের বিজয়করা গ্রামে বিএনপিকর্মী রাজুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম অভিযোগ করেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন কর্মী অফিসে অবস্থান করছিলেন। তখন জামায়াত শিবিরের ৩০ থেকে ৪০ জন নেতা কর্মী অতর্কিত হামলা চালান। তার দাবি, ধারাল অস্ত্রের আঘাতে তিন কর্মী রক্তাক্ত হন এবং আরও কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। তিনি জানান, পরে একই দল বিজয়করা গ্রামে বিএনপির একজন কর্মীর বাড়িতেও হামলা চালায়।
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় একটি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। একপর্যায়ে বিএনপির কর্মীরা তাদের একজনকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। তার দাবি, ওই হামলার পর স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি অফিস ও একটি বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে জামায়াতের কোনো নেতা কর্মী জড়িত ছিলেন না।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় দলের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











