নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ১৯ মার্চ- আসাম বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম দফার প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই তালিকায় ৮৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল এক দফায় অনুষ্ঠিত হবে ১২৬ আসনের এই নির্বাচন।
ঘোষিত তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি হলো হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। প্রত্যাশা অনুযায়ী এবারও তিনি গুরুত্বপূর্ণ আসন জালুকবাড়ি থেকে নির্বাচন করবেন। এই আসনটিকে দীর্ঘদিন ধরেই তার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০১ সাল থেকে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। প্রথমদিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলেও পরে দল পরিবর্তন করে বিজেপিতে যোগ দেন এবং এরপরও নিজের আসন ধরে রাখেন। বর্তমানেও তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এবারের প্রার্থিতালিকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে দলবদলের রাজনীতি। সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য প্রদ্যোৎ বরদলৈকে দিসপুর আসন থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। দলত্যাগের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি নতুন দলে মনোনয়ন পাওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে আসাম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও যোরহাটের সংসদ সদস্য গৌরব গগৈ এর সঙ্গে তার সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল বলে জানা যায়।
প্রদ্যোৎ বরদলৈয়ের দলত্যাগের আগে থেকেই ইঙ্গিত মিলছিল রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের। অবশেষে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে যান। এর আগে তাকে দলে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তাকে উপযুক্ত আসন দেওয়া হবে। বাস্তবেও সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা গেছে।
শুধু প্রদ্যোৎ বরদলৈই নন, কংগ্রেস থেকে আসা আরও এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ভূপেন বরাকেও প্রার্থী করেছে বিজেপি। আসাম প্রদেশ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি ভূপেন বরাকে বিহপুরিয়া আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তার অন্তর্ভুক্তি বিজেপির প্রার্থিতালিকাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এছাড়া দলটির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও এবারের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পীযূষ হাজরিকা, জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া, অশোক সিংহল, অজন্তা নিয়োগ, চন্দ্রমোহন পাটওয়ারি এবং রূপেশ গোয়ালা। তাদের পুনরায় মনোনয়ন দেওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছে দলটি।
তবে প্রার্থিতালিকায় চমকও কম নেই। বর্তমান মন্ত্রী নন্দিতা গারসোলাকে এবার তার নিজ আসন হাফলং থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। একইভাবে আসাম বিজেপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যকেও তার বর্তমান আসন গुवাহাটি পূর্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো দলীয় অভ্যন্তরে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রার্থিতালিকা দেখে স্পষ্ট যে বিজেপি একদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের ধরে রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিরোধী দল থেকে প্রভাবশালী নেতাদের দলে টেনে এনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। বিশেষ করে কংগ্রেস থেকে আসা নেতাদের দ্রুত মনোনয়ন দেওয়া দলটির নির্বাচনী কৌশলের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই প্রার্থিতালিকা কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ইতোমধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে এবং বিভিন্ন দল তাদের কৌশল সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au