৩৬ দিন পর ফেরত এসেছে ভারতীয় কারাগারে মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশির লাশ
মেলবোর্ন, ১৯ মার্চ- ভারতের কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করার ৩৬ দিন পর এক বাংলাদেশি নাগরিকের লাশ আজ দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা…
মেলবোর্ন, ১৯ মার্চ- খুলনার লবনচরা থানার খাদিজাবাগ কৃষ্ণনগর ঠিকরাবাদ এলাকায় ভোরবেলায় ঘরে ঢুকে একই পরিবারের চার সদস্যকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ হামলার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হলেন কাজী আনিসুর রহমান, তার স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে রাইছুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে রাশিদুলের স্ত্রী ফাহিমা। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাহিমার শরীরে গুলি থেকে যাওয়ায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পেছনে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জটিলতা রয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে আনিসুর রহমানের ছোট ছেলে রাশিদুল একটি মাদক মামলায় কারাগারে গেলে সেখানে সন্ত্রাসী ইমরানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে ইমরানের সঙ্গে রাশিদুলের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে ইমরান রাশিদুলের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে।
এই যাতায়াতের একপর্যায়ে ইমরানের স্ত্রী ফাহিমার সঙ্গে রাশিদুলের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। প্রায় ছয় মাস আগে ইমরান আবারও একটি মামলায় কারাগারে গেলে সেই সুযোগে রাশিদুল ফাহিমাকে বিয়ে করেন বলে জানা যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইমরান ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ওই বাড়িতে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে পরিবারের চার সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
লবনচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তুহিনুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়াজনিত বিরোধের জের ধরে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ছয়জন বলে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, রঞ্জুয়ারা বেগমের বুকে এবং ফাহিমার পায়ে গুলি বিদ্ধ অবস্থায় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ সম্ভব হয়নি। এজন্য তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্য দুই আহত বর্তমানে খুলনায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au