৩৬ দিন পর ফেরত এসেছে ভারতীয় কারাগারে মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশির লাশ
মেলবোর্ন, ১৯ মার্চ- ভারতের কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করার ৩৬ দিন পর এক বাংলাদেশি নাগরিকের লাশ আজ দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা…
মেলবোর্ন, ১৯ মার্চ- বৃহস্পতিবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে একটি জাহাজে হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটিতে ‘অজ্ঞাত একটি বস্তু’ আঘাত হানার ফলে সেখানে আগুন ধরেছে। হামলার শিকার জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে, আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ইরান-যুক্ত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ পর্যন্ত ২০টির বেশি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের হামলার ফলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই দিনে কুয়েতে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হামলার ফলে সেখানে সীমিত মাত্রার অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কুয়েত নিউজ এজেন্সি (কেএনএ) জানিয়েছে, মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। শোধনাগারটি কুয়েত সিটি থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এবং দৈনিক ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদনক্ষমতার মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার। তবে হামলার উৎস কোথা থেকে তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের ‘সৌদি আরামকো’ কোম্পানির সামরেফ তেল শোধনাগারেও একই দিনে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হত্যা কর্মকাণ্ডের ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে চীন।
বেইজিং থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীন সব সময়ই শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করে এসেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় নেতাদের হত্যা এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা “অগ্রহণযোগ্য” এবং তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ।
মধ্যপ্রাচ্যে এ ধরনের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামুদ্রিক বাণিজ্য, তেলের সরবরাহ ও নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী ও কুয়েত-সৌদি সীমান্তের মতো সংবেদনশীল স্থানে হামলা চলতে থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
এই ঘটনায় নিরাপত্তা ও সামরিক পর্যবেক্ষণ তৎপর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের নৌবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখছে। এছাড়া জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিচালনা সংস্থাগুলোও পরিস্থিতি মনিটর করছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, হামলার ধারা চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক জাহাজপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আরও সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, হামলার তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক নীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ধরনের ঘটনা রোধে জোর দেয়ার পাশাপাশি, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au