২০০ টাকার লোভে অক্সিজেন মাস্ক বিচ্ছিন্ন, শ্বাসকষ্টে প্রাণ গেল দিপালী সিকদারের
মেলবোর্ন, ১৪ মে- মাত্র ২০০ টাকার বকশিশকে কেন্দ্র করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক হাসপাতাল…
মেলবোর্ন, ১৪ মে- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিবাদে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে সহস্রাধিক নারী শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান এলাকা থেকে নারী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে মশাল মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের ১০টি ছাত্রী হলের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে রাত ১০টার দিকে বটতলা এলাকা থেকে ছাত্রদের একটি পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে সেটি টারজান এলাকায় গিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের মিছিলে যুক্ত হয়ে সংহতি প্রকাশ করে।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল, ‘ধর্ষকের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ক্যাম্পাসে ধর্ষণ করে, প্রক্টর কী করে?’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ এবং ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’।
মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম–কে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে, প্রক্টরিয়াল বডিকেও ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরে দাঁড়াতে হবে, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর কুইক রেসপন্স টিম গঠন করতে হবে এবং ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে হবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেবে মনে করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই নিরাপত্তাবোধ ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরেই এক শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে ঝোপের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে, যা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক এবং উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষায়, প্রশাসন নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের একটি সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে পাশের ঝোপে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন এক তরুণের চেহারা শনাক্ত করা গেলেও এখনো তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au