২০০ টাকার লোভে অক্সিজেন মাস্ক বিচ্ছিন্ন, শ্বাসকষ্টে প্রাণ গেল দিপালী সিকদারের
মেলবোর্ন, ১৪ মে- মাত্র ২০০ টাকার বকশিশকে কেন্দ্র করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক হাসপাতাল…
মেলবোর্ন, ১৪ মে- ইরান যুদ্ধ চলাকালে ইরাকে ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র। একই সময়ে কুয়েতের ভূখণ্ড থেকেও ইরাকের ভেতরে রকেট হামলা চালানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল ইরান বা তার সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ইরাককেন্দ্রিক একটি গোপন দ্বিতীয় ফ্রন্টে সৌদি আরব সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া লক্ষ্যবস্তুতে। একই সময়ে কুয়েত থেকেও ইরাকের ভেতরে রকেট হামলার ঘটনা ঘটে বলে একাধিক নিরাপত্তা ও সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক সামরিক অভিযান চালানো হলেও অনেক ঘটনার তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি বা আড়ালে রাখা হয়েছে। রয়টার্সের এ অনুসন্ধানে ইরাকের তিনজন নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তা, একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আরও দুই ব্যক্তি তথ্য দিয়েছেন, যাদের একজন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরাকের উত্তর ও সৌদি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সক্রিয় ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান একাধিক দফায় বোমা হামলা চালায়। এসব মিলিশিয়া গোষ্ঠী ইরাকের ভেতর থেকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছিল বলে দাবি করা হয়। পশ্চিমা এক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন যে সৌদি বিমানবাহিনী এসব হামলা পরিচালনা করে।
একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা আরও জানান, কিছু বিমান হামলা এমন সময়ে চালানো হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, বিশেষ করে ৭ এপ্রিলের কাছাকাছি সময়ে।
সূত্রগুলোর দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল সেই সব স্থান, যেখান থেকে ইরাকের ভেতর থেকে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হতো। ইরাকি সামরিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে জানা যায়, কুয়েতের ভূখণ্ড থেকেও অন্তত দুইবার ইরাকের ভেতরে রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
একাধিক সূত্র আরও জানায়, গত এপ্রিল মাসে দক্ষিণ ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া অবস্থানে একাধিক বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হন। একই সময়ে কাতায়েব হিজবুল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়, যা মূলত যোগাযোগ ও ড্রোন অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত হতো।
তবে কুয়েত থেকে ছোড়া রকেটগুলো কুয়েতি সেনাবাহিনী নাকি সেখানে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী নিক্ষেপ করেছে, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয় এবং ইরাক সরকারও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের সময় সৌদি আরবও ইরানের ভেতরে সীমিত পাল্টা হামলা চালায়, যা রিয়াদের পক্ষ থেকে ইরানে সরাসরি আঘাতের প্রথম ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই ধরনের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতও অংশ নেয় বলে সূত্রগুলোর দাবি।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রিয়াদ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উত্তেজনা কমানোর পক্ষে অবস্থান নেয়, তবে ইরাকে চালানো বিমান হামলা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। কাতায়েব হিজবুল্লাহর এক মুখপাত্রও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।
রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, সৌদি আরবের ওপর হামলার জবাবে ইরান যুদ্ধ চলাকালে সৌদি ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালিয়েছিল। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের ওপর পাল্টা আঘাত হানে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সব সূত্রই নিশ্চিত করেছে, ইরাকের ভেতর থেকেই শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ছোড়া হয়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে মিলিশিয়া-সম্পর্কিত টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে একাধিকবার সৌদি আরব, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করা হয়, যদিও এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরাক কার্যত একটি দ্বিতীয় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল, যেখানে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়ভাবে সীমান্ত পার হয়ে অভিযান চালায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সৌদি আরব ও কুয়েত কূটনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থান নেয় এবং ইরাকের ওপর চাপ বাড়ায়।
কুয়েত একাধিকবার বাগদাদে নিযুক্ত ইরাকি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এবং প্রতিবাদ জানায়। একইভাবে সৌদি আরবও ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সীমান্ত হামলার বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করে। এর মধ্যে বসরা শহরে কুয়েতি কনস্যুলেটে প্রবেশের ঘটনাও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ায়।
ইরাকের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, কিছু হামলা প্রতিরোধে ইরাকি বাহিনী সফল হয়। এর মধ্যে বসরার পশ্চিমে সৌদি জ্বালানি স্থাপনায় হামলার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত রাখা একটি রকেট লঞ্চার জব্দ করা হয়।
তবে সীমান্তে উত্তেজনা থেমে থাকেনি। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এখনো নজরদারি ড্রোন ব্যবহার করছে, সীমান্তে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং সংগৃহীত তথ্য ইরানে পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, বরং দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন প্রকাশ। ১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণ এবং ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরাক ও ইরান-ঘনিষ্ঠ শক্তিগুলোর সম্পর্ক গভীর সন্দেহের মধ্যে রয়েছে।
২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সাম্প্রতিক সংঘাত সেটিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au