পশ্চিমবঙ্গে সরকারি অনুমতি ছাড়া পশু জবাই নিষিদ্ধ
মেলবোর্ন, ১৪ মে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রকাশ্যে পশু জবাই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গরু, মহিষসহ বিভিন্ন গবাদিপশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ…
মেলবোর্ন, ১৪ মে- মাত্র ২০০ টাকার বকশিশকে কেন্দ্র করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক হাসপাতাল কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরপরই অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা ওই রোগীর মৃত্যু ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা, সংঘর্ষ এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মৃত রোগীর নাম দিপালী সিকদার (৪০)। তিনি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর সিকদারের স্ত্রী।
পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার (১৩ মে) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে দিপালী সিকদারকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে করোনা ডেডিকেটেড মেডিসিন ইউনিটে স্থানান্তর করেন এবং টানা দুই ঘণ্টা অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে হাসপাতালের শয্যা সংকটের কারণে তাকে ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল।
নিহতের ভাই মিলন হাওলাদার অভিযোগ করেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেডিসিন ইউনিট-১ এর কর্মচারী সোহেল সেখানে আসেন। ওই সময় পাশের আরেক রোগীর স্বজনরা ট্রলিটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাকে ২০০ টাকা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই টাকার বিনিময়েই দিপালীর অক্সিজেন লাইন খুলে দেন কর্মচারী সোহেল।
স্বজনরা বাধা দিলেও তিনি তা শোনেননি বলে দাবি করেন তারা।
মিলন হাওলাদার বলেন, অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই তার বোন দিপালী সিকদার মারা যান। তার ভাষায়, “এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি হত্যাকাণ্ড।”
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্বজনরা অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে আটক করে মারধর করেন। পরে হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীরা এতে জড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করেন।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। পাশাপাশি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীর স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হাসপাতালে এমন দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনা মানবিক সেবাকে বিপর্যস্ত করছে।
তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au